জয়েন্ট পেইন প্রতিরোধে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর ভূমিকা

আজকাল জয়েন্ট পেইন খুব কমনএকটি সমস্যা, সবার মধ্যেই কম বেশি লক্ষণ গুলো প্রকাশ পাচ্ছে। শরীরের যে কোন দুটি হাড় যে অংশে মিলিত হয় তাকে জয়েন্ট বলে। এই জয়েন্ট এ কোন ধরণের প্রদাহ বা যন্ত্রণা হলে সেটি হচ্ছে জয়েন্ট পেইন। সাধারণত হাঁটু,  কবজি, গোড়ালি,  কোমর ইত্যাদি জয়েন্টে এই সমস্যা দেখা দেয়।

বিভিন্ন কারণে জয়েন্ট পেইন হয়ে থাকে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড় ক্ষয় বা ভঙ্গুর হলে হাড় রিকেট,  অস্টিয়োপোরোসিস আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া কোন আঘাত থেকে, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি কারনে জয়েন্ট পেইন হতে পারে। আর্থ্রাইটস সাধারণত হাঁটু তে বেশি হয় কেননা হাঁটু সবচেয়ে বেশি ওজন বহনকারী জয়েন্ট।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি শরীরের হাড় গঠন ও সংরক্ষণ এর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ক্যালসিয়াম দেহের হাড় মজবুত করে এবং  ভিটামিন ডি এর কাজ হচ্ছে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করা। অর্থাৎ হাড়ের গঠন ও সংরক্ষণ এ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দুই-ই অপপরিহার্য।  পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ না করা হলে,  দেহের হাড়ের মজ্জা থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে শরীর তার শারীরিক কার্যক্রম চালায়, ফলে হাড় হয়ে যায় ভংগুর।তাই জয়েন্ট পেইন থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি রাখা অত্যন্ত জরুরী।

ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়াম মানব দেহের হাড়-দাঁত গঠন ও মজবুত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  দেহের ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে এবং বাকি অংশ নরম কলা বা টিস্যু যেমন- পেশি,  রক্ত ইত্যাদিতে থাকে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন নূন্যতম ৭০০-১০০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন তবে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ কিছুটা বেশি  (১২০০ মিলি গ্রাম)প্রয়োজন।
এখন দেখে নেয়া যাক কিছু কালসিয়াম যুক্ত খাবার এর নাম।

কিছু ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার:

দুধ: দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার যেমন- পনির, মাখন, দই ইত্যাদি হল ক্যালসিয়াম এর সর্বোৎকৃষ্ট উৎস। প্রতি ২৫০মিলি গ্রাম দুধে ৩২২মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।

মাছ ও মাংস: গরু,  খাসি, মুরগীর মাংস, কলিজা,  ডিম। মাছের মধ্যে মাগুর,  শিং, কই,  সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।

শাক সব্জি: কচু শাক, পালং শাক, কাচা কলা, চাক কুমড়া, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, মিষ্টি আলু, ঢেঁড়স,  করলা ইত্যাদি সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।

ফলমূল:  কমলা, পেয়ারা, জলপাই, তরমুজ,  কলা, আনারস,  কাঁঠাল,  লিচু,  আম ইত্যাদি ক্যালসিয়াম এর উৎক্রিষ্ট উৎস।

 

ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি একটি ফ্যাট সলিউবল স্টেরয়েড জাতীয় ভিটামিন অর্থাৎ তেল জাতীয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক নূন্যতম ৬০০ IU ভিটামিন ডি প্রয়োজন। সূর্যের আলোক রশ্মি শরীরে ভিটামিন ডি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের স্কিনের নিচে অবস্থিত কলেস্টেরল সূর্যের ultraviolet রশ্মি কাজে লাগিয়ে ভিটামিন ডি তৈরি করে। এছাড়াও বিভিন্ন খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূর্ণ করতে পারি।

কিছু ভিটামিন ডি  যুক্ত খাবার:

দুধ ও দুধ জাতীয় খাবারঃ প্রতি ১০০মিলি দুধে থাকে ৫১ IU ভিটামিন ডি। এছাড়া পনির, মাখন,দই- ছানা থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

মাছ:
মাছের তেলের মধ্যে অনেক পরিমানে ভিটামিন ডি পাআ যায়। বিভিন্ন ধরণের মাছ বিশেষ করে সামুদ্রিক বা চর্বি যুক্ত মাছ,  যেমন –টুনা, স্যালমন ইত্যাদি।

ডিম:  ডিমের কুসুমে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ডি রয়েছে।

মাশরুমঃ মাশরুমে মোটামুটি পরিমানে পরিমাণে ভিটামিন ডি রয়েছে।

এছাড়া, সুরক্ষিত কমলার শরবত যেখানে ভিটামিন ডি যোগ করা থাকে এগুলোও ভিটামিন ডি এর ভাল উৎস।

হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি রাখা অত্যন্ত জরুরী।

লেখক-
আশফিয়া রশিদ খান
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান।

4,528 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *