প্যাকেটজাত খাবারের লেভেলের কোন কোন উপাদান ক্ষতিকর ?

গবেষনাগারে কিংবা বিভিন্ন খাদ্য থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়াতে যেসব কৃত্রিম স্বাদ বাড়ানোর উপাদান, রং,সংরক্ষক উৎপাদন করা হয় তা বেশীরভাগই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষ করে কিছু উপাদান খাদ্যে দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়ে আসছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। এগুলো খাবারে ব্যবহারের মূল কারন হল এগুলোর উৎপাদন ব্যয় কম, খাদ্যে কম পরিমানে ব্যবহার করলেই অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয় এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমানে উৎপাদন করা যায়। তাই খাদ্যদ্রব্যে এই রাসায়নিক উপাদান গুলো ব্যবহার করা হয়।

ন্যাচারাল কালার হিসেবে ক্ষতিকর ই- কোড এর ব্যবহার

এদের নাম গুলো ‘ই’ কোড দিয়ে প্যাকেট এর গায়ে লিখা হয়। এদের অনেকগুলো ভালো হয় যা পূর্বের ই- কোড  পোষ্টে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু ই- কোড এর ব্যবহার ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ । তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা -ন্যাচারাল ফ্লেবার বা ন্যাচারাল কালার হিসেবে খাদ্য উৎপাদনের সময় এগুলো ব্যবহার করে।  তাই ক্ষতিকর ‘ই’ কোড গুলো সম্পর্কে পরিচিত হতে হবে

 ‘ই’ কোডের ক্ষতিকর প্রভাবঃ

১। (ই১২৯) অ্যালুরা লাল এসি ঃ
এই উপাদানটি সাধারণত লাল বা কমলা রঙের হয়, খাদ্যে রঙ হিসাবে বিভিন্ন নাস্তায়,সস, সংরক্ষক হিসাব, কোমল পানীয়তে,ওয়াইন,স্যুপ,সাইডারে ব্যাবহার করা হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-এটি বাচ্চাদের খিটখিটে মেজাজ,অতিরিক্ত অস্থিরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
-বয়স্কদের মধ্যে যাদের অ্যাস্পিরিন গ্রহণে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তাদের ক্ষেত্রে চামড়ায় অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা যায়।
-যদি কেউ অ্যাজমাতে আক্রান্ত হন,Rhinitis( নাকের ভিতর বা মিউকাস মেমব্রেনে চুলকানী) Hay fever(নাক দিয়ে পানি পরা,চোখ চুল্কান, চামড়ার নীচে অত্যাধিক রক্ত জমা হওয়া) Urticaria বা Hives ( চুল্কানী,চামড়া ফুলে যাওয়া,লাল হয়া, স্পর্শ করলে ব্যাথা পাওয়া ) ইত্যাদি সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের জন্য জটিলতা বাড়তে পারে, আবার অনেকের এই সমস্যা নতুন ভাবে দেখা যায়।

জানুন জেলি ক্যান্ডি গুলোতে কোন কোন ফুড কালার ব্যবহার করা হয়। 

-ই১২৯ অনেক দেশেই ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিশেষ করে ফ্রান্স,জার্মানী,বেলজিয়াম,অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন ইত্যাদি দেশে।

২। (ই১২৩) অ্যামারান্থঃ
এটি এক ধরনের কৃত্রিম রঙ যা স্প্রাইট,মাছের ডিম,ওয়াইন-এ ব্যাবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
আমেরিকাতে ই১২৩ এর ব্যাবহার যেকোন খাবারে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এটি অ্যাজমা, Urticaria,অ্যালাজি জনিত সমস্যা যাদের রয়েছে, Rhinitis রোগীদের ই১২৩ যুক্ত খাবার দেওয়া যাবে না,এতে তাদের শারীরিক সমস্যা বেড়ে যাবে।

৩।অ্যাস্পারটেম(ই৯৫১);
এটি সারাবিশ্বে মিষ্টিকারক হিসাবে ব্যাবহার হচ্ছে বিশেষ করে কোমল পানীয়,অ্যালকোহল,বিভিন্ন নাস্তায়,মিষ্টান্ন,বিশেষ করে জিরো ক্যালরি(সামান্য পর্রিমানে লাগে, ক্যালরি খুবই কম, কিন্তু চিনির মতো মিষ্টি)বলে,ডায়াবেটিক খাবার,কম চিনিযুক্ত খাবার,কম চর্বিযুক্ত খাবার কম ক্যালরি যুক্ত খাবারে ব্যাবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাব;
-অ্যাস্পারটেম পিকেইউ বা ফিনাইল-কিটো-ইউরিয়া(যাদের উচ্চ আমিষ জাতীয় খাবার ভাঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এনজাইম-এর ঘাটতি থাকে) জনিত রোগে আক্রান্ত তাদের শারীরিক জটিলতা বাড়ায়।
– সম্প্রতি গবেষনায় দেখা গেছে, দীঘদিন অতিমাত্রায় গ্রহণে মাথাব্যাথা, অন্ধত্ব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্যান্ডি প্যাকেট এ দেখুন কোন ফুড কালার এবং আর্টিফিশিয়াল সুইটনার ব্যবহার হচ্ছে

৪।বেনজোয়িক এসিড (ই২১০);

এটি সংরক্ষক হিসাবে পানীয়,অল্প চিনি্যুক্ত পণ্য,শষ্যজাতীয় খাবার এবং মাংস জাতীয় খাবারে ব্যাবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-স্বল্প সময়ের জন্য হজমের এনজাইমের কার্যকারিতায় বাধা দেয়, গ্লাইসিনের (অত্যাবশকীয় অ্যামাইনো এসিড যা শরীরে প্রোটিন তৈরি করে) মাত্রা কমিয়ে দেয়,
-যাদের হেয় ফিভার,অ্যাজমা,অ্যালাজি জনিত সমস্যা, তাদের জটিলতা বাড়ায়।

৫।ব্রিলিয়ান্ট কালো বিএন(ই১৫১);
কৃত্রিম কালো রঙ হিসাবে নাস্তায়,সস, ওয়াইন,পানীয় ও পনিরে ব্যাবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
যাদের অ্যালাজি জনিত,Urticaria,Rhinitis সমস্যা আছে তাদের ই১৫১ যুক্ত খাবার বাদ দেওয়া উচিৎ।যদিও বিভিন্ন দেশে ই১৫১ ব্যবহার না করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া,আমেরিকা,জার্মানী,নরওয়এ, সুইডেন,সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং ফ্রান্সে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কনফেকশনারী খাবার

৬।বুটাইলেটেড হাইড্রোক্সি অ্যানিসোল (ই৩২০);
সংরক্ষক হিসাবে চর্বি জাতীয় খাবারে এবং কনফেকশনারীতে,মাংসে ব্যাবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
International Agency for Research on Cancer বলেছে, BHA মানব শরীরে Carcinogenic বা ক্যান্সার কোষ তৈরীর জন্য দায়ী।BHA, নাইট্রেট্রের সাথে রাসায়নিক ভাবে মিলে কিছু উপাদান গঠন করে যা Mutagenic প্রক্রিয়ায় DNA কোষকে পরিবর্তন করে ক্যান্সার এর দিকে নিয়ে যায়।

৭। ক্যালসিয়াম বেনজোয়েট (ই২১৩);
সংরক্ষক হিসেবে পানীয়,কম মিষ্টিযুক্ত খাবার,শষ্যজাতীয় খাবার,মাংসের পণ্যে ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
যাদের অ্যালাজি জনিত,Urticaria,Rhinitis সমস্যা আছে তাদের ই১৫১ যুক্ত খাবার বাদ দেওয়া উচিৎ।

৮। ক্যালসিয়াম সালফাইট (ই২২৬);
অনেক খাবার যেমন বার্গার প্যাটি থেকে শুরু করে বিস্কিট, হিমায়িত মাশরুম থেকে সবজির বিভিন্ন অংশ সংরক্ষনে,পানীয়তে,কম চিনিযুক্ত খাবারে ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-সালফাইট আমেরিকাতে খাবারে ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে কারণ সালফাইট পুরাতন খাবারে ব্যবহার করলে তা নতুন দেখায়, বিশেষ করে মাংশে এর ব্যবহার পুরোপূরি নিষেধ করা হয়েছ।
-দীর্ঘদিন ই২২৬ যুক্ত খাবার খেলে শ্বাসকষ্ট,অনিদ্রা, নিম্ন রক্তচাপ, চোখ কাঁপা, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হল Anaphylactic Shock(এটি একটি অ্যালাজিক প্রতিক্রিয়া যা মারাত্নক আকারে দেখা যায়, যা খাবারের মাধ্যমে, পোকা-মাকড়ের মাধ্যমে ও কোন বিশেষ রাসায়নিক উপাদান বা ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার জন্য দেখা যায়)।
-International Labor Organisation(ILO) থেকে বলা হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি শ্বাসকষ্ট,হৃদরোগের সমস্যা এবং Emphsema ( এটি ফুসফুসের একটি অবস্থা যেখানে রোগী নি:শ্বাসের দুর্বলতা দেখা যায়,ফুস্ফুসের অ্যালভিওলাই গুলো নষ্ট হয়ে যায়) থাকে তাহলে তাদের সালফেট ব্যবহার করা পণ্য খাবার বাদ দিতে হবে।

৯। মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট (ই৬২১);
বিশ্বব্যাপী স্বাদ বর্ধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি এসএমজি নামে পরিচিত। স্যুপ,সস,আচার,টেস্ট মেকার,চাইনিজ খাবার,সয়া সস ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
ই৬২১ খাবারের সাথে অনেক সময় গ্রহন করলে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন; মাথায় চাপ ধরে থাকা,বুকে ব্যাথা,মাথা ব্যাথা,বমিবমি ভাব, পেটের মধ্যে যন্ত্রণা হওয়া, মুখে শক্ত বা টান্ টান ভাব অনুভূত হয় এবং Seizure(মস্তিষ্কজনিত সমস্যা)দেখা যায়।
-শিশুদের খাবারে এই রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে।

১০। পটাশিয়াম বেনজোয়েট(ই২১২);
সংরক্ষক হিসেবে পানীয়, কম মিষ্টিযুক্ত খাবার,শষ্যজাতীয় খাবার এবং মাংশে ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-সাময়িকভাবে হজমের সাহায্যকারী এনজাইমদের কার্্যংকারিতাই বাধা দেয়।
-শরীরের গ্লাইসিন(অত্যাবশকীয় অ্যামাইনো এসিড) এবং অন্যান্য অ্যামিনো এসিডের মাত্রা কমায়।
-যাদের অ্যালাজি জনিত সমস্যা যেমন, Hay Fever, Hives, অ্যাজমা জনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ই২১২ যুক্ত খাবার বাদ দেওয়া উচিৎ।

১১। পটাশিয়াম নাইট্রেট(ই২৪৯);
মাংসের কিমা এবং ক্যানজাত মাংসে সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
ই২৪৯ আমাদের শরীরে তিন(৩) ভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
– এটি রক্তে অক্সিজেন ধরে রাখার ক্ষ্মতা কমিয়ে দেয়।
– এটি অন্যান্য উপাদানের সাথে মিলে “নাইট্রোসো অ্যামিন” নামক উপাদান তৈরী করে যা ক্যান্সার কোষ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
– এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিতে Atrophying Effect( পেশী এবং স্নায়ুতন্ত্রের অসুস্থতাজনিত প্রভাব) তৈরী করে।

১২। প্রোপাইল পি-হাইড্রোক্সি- বেনজোয়েট, প্রোপাইল প্যারাবেন, প্যারাবেন (ই২১৬);
শষ্য,নাস্তায়,মাংসজাতীয় পণ্য এবং কনফেকশনারীতে সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
বিভিন্ন গবেষনায় দেখা যায়,প্যারাবেন জটিল চর্মরোগের কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১৩। স্যাকারিন এবং এর সোডিয়াম, পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম লবণ (ই৯৫৪);
প্রচুর পরিমানে মিষ্টিজাতীয় পণ্যে ব্যবহার করা হয়,বিশেষ করে ডায়েট এবং চিনিবিহীন পণ্যে পাওয়া যায়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
International Agency for Research on Cancer, এর মতে স্যাকারিন মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী carcinogenic( ক্যান্সার সৃষ্টির শুরুর অবস্থা) প্রভাব সৃষ্টি কররে।

১৪। সোডিয়াম মেটাবিসফসফেট(ই২২৩);
সংরক্ষক এবং অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
অ্যাজমা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একজন মহিলার হঠাৎ করে অ্যাজমা জটিল আকার ধারণ করে, পরে গবেষণায় দেখা যায়,উনি যে সালাড খাচ্ছিলেন তার ড্রেসিং এ ভিনেগার এর সাথে ই২২৩ মিশ্রিত ছিল।
১৫। সোডিয়াম সালফাইট (ই২২১);
ওয়াইন তৈরীতে এবং অন্যান্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে সালফাইড কাজ করে, বেশীর ভাগ অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে সালফাইড যুক্ত খাদ্য গ্রহণে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়।

১৬। স্ট্যানেয়াস(টিন) ক্লোরাইড(ই৫১২);
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং রঙ সংরক্ষক হিসেবে ক্যানজাত, বোতলজাত পণ্য এবং ফলের রসে ব্যবহার করা হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে যে,যদি কোন ফলের রসে স্ট্যানেয়াসের(টিনের) পরিমাণ ২৫০ মিলিগ্রামের বেশী হয় প্রতি লিটারে উপস্থিত থাকে তাহলে ঐ ফলের রস পান করলে গ্রহণকারীর মারাত্নক বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া অন্যান্য যে লক্ষনগুলো দেখা যায়,বমিবমি ভাব,বমি,ডায়রিয়া এবং মাথা ব্যাথা ইত্যাদি।

১৭। সালফার ডাই অক্সাইড (ই২২০);
সংরক্ষক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-সালফার ডাই-অক্সাইড খাদ্যের উপস্থিত ভিটামিন,খনিজ লবণ, এনজাইমের এবং ফ্যাটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে,
-এর ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায় শ্বসনতন্ত্রের সমস্যায় বিশেষ করে যাদের অ্যাজমাজনিত সমস্যা রয়েছে।
-অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হল, নিম্ন রক্তচাপ, অনিদ্রা, চুলকানী এবং মারাত্নক পর্যায়ে পেশী বা স্নায়ুতন্ত্রের অবশ হয়ে যায়।
-International Labor Organization(ILO)এর মতে, যদি কারো Conjunctivitis, Bronchitis, Emphysema, Bronchial Asthma বা হৃদর্রোগের সমস্যা থাকে তাহলে ই২২০ যুক্ত খাবার বাদ দেওয়া উচিৎ।

১৮। সানসেট হলুদ এফসিএফ,অরেঞ্জ ইয়েলো এস(ই১১০);
খাবারে রঙ হিসেবে বেশী ব্যবহৃত হয়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
কিছু প্রাণীর খাদ্যে ই১১০ যোগ করে গবেষনা করার পর দেখা গেছে যে, তাদের দৈহিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়েছে এবং মারাত্নকভাবে ওজন হ্রাস পেয়েছে।অ্যালাজিক সমস্যা থাকলে ই১১০ যুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।

১৯। টারট্রাজিন(ই১০২);
হলুদ রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।ই১০২ বর্তমানে সরিষা, মারমালেড, জেলী,আইস ললি, কোম্ল পানীয়, ক্যাস্টার্ড পাউডার এবং স্যুপে পাওয়া যায়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
-মোট জনসংখ্যার ১৫% ব্যক্তির মধ্যে ই১০২ অ্যালাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
-এটই হাঁপানিজনিত সমস্যা বাড়ানোর কারন হিসেবে ধরা হয়।
-হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুদের অবস্থা নেতিবাচক হওয়ার ভূমিকা রাখে।
-যাদের অ্যাজমা,rhinitis,uricaria আছে তাদেরই১০২ গ্রহনের পরে শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।
-ই১০২ নরওয়ে, অস্ট্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়না।যদিও ব্রিটেনে কোমল পানীয়তে এবং খাদ্যে ব্যবহার করা হ্য।ব্রিটেন সরকার শিশুদের খাদ্যে ব্যবহার নিষেধ করেছে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিহার করতে বলেছে।

ক্ষতিকর ই- কোড নিয়ে সচেতন হন। যদি সন্দেহ হয় তাহলে জানতে চান- পন্যের কাস্টমার হেল্প লাইন এ। আর অপরের কোন ক্ষতিকারক  ই- কোড থাকলে নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না আমাদের দেশেও ভোক্তা অধিকার আইন আছে, সেটা ব্যবহার করুন।
জানুন এবং সুস্থ থাকুন।

লেখক-
শাহরুখ নাজ রহমান
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান

6,014 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *