চকলেটের চমৎকার- কোনটি আপনার জন্য?

তিনি হাজার বছরের সন্ন্যাসী; চকলেটের নাম শুনলে যার  জিবে কখনই  পানি আসে নি- তবে   সে আমি নই।  ক্ষুদে থেকে বুড়ো,সবাই পাগল চকলেটের জন্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক চকলেটের ভালো-মন্দ , কোনটি  এবং কতটুকু  খাওয়া আপনার জন্য ভাল।

চকলেটের শুরুঃ 
চকলেট বানানো হয় কোকো বা কাকাউ ফলের বীজ থেকে যাকে কোকো বিনস বলা হয়। কোকো বিনস থেকে কোকো পাউডার বানানো হয় যা দিয়ে হট কোকো বা চকলেট মিল্কশেক বানানো হয়। কেক বা অন্যান্য চকলেটের ফ্লেভার যুক্ত খাবার বানাতেও এই কোকো পাউডার ব্যবহার করা হয়। চকলেটের প্রধান উপাদানও এই কোকো পাউডার।

হরেক রকম চকলেটঃ
ডার্ক চকলেট এটি তৈরি হয় কোকো পাউডার এবং কোকো বাটার দিয়ে এতে চিনি থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে। এটি ৩৫%-১০০% পর্যন্ত হতে পারে। তুলনামূলক ভাবে চিনি কম হলেও বাটার থাকায় পুর্নবয়স্ক মানুষের পরিমিত পরিমান খাওয়াই উত্তম।
মিল্ক চকলেট- এতে থাকে কোকো পাউডার, কোকো বাটার, দুধ এবং চিনি। সাধারণত এতে ডার্ক চকলেটের থেকে কম (২০-২৫%) কোকো পাউডার ও বেশি চিনি থাকে। বুড়ো হোক বা অল্পবয়সী বাচ্চা, উভয়ের মাঝে এটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
হোয়াইট চকলেট এতে কোকো পাউডার থাকে না। শুধুমাত্র কোকো বাটার, দুধ ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি হয়।

কোকোর কথকতাঃ
কোকো পাউডারের রয়েছে নানা রকম গুণাবলি-

১। কোকো পাউডারে পাওয়া যায় নানারকম ফ্ল্যাভোনয়েড যেমন- ক্যাটেকিন, এপিক্যাটেকিন, প্রোসায়ানিডিন ইত্যাদি। এগুলো হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২। গবেষণায় জানা গেছে কোকো পাউডারের ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তচাপ কমায়

৩। দেহের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়।

৪। কোকো মস্তিষ্কের জন্যও ভালো। কোকো চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

৫। কোকো মস্তিষ্কের কিছু রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

তবে কোকোর এসব উপকার ভোগ করতে প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম ফ্ল্যাভনয়েড গ্রহণ করা উচিত। সমস্যা হল এই পরিমাণ ফ্ল্যাভনয়েড পেতে ৮টি ডার্ক চকোলেট বার বা ৩০টি মিল্ক চকোলেট বার খেতে হবে। আর এই চকোলেট বারগুলো ফ্ল্যাভনয়েডের সাথে অতিরিক্ত ক্যালরী আর চিনিও বহন করে যা দেহের উপকার না করে বরং ক্ষতিসাধন করে।

কোকোর উপকার পেতে ১০০% কোকো প্রোডাক্ট কেনা উচিত। যেমনঃ চিনিছাড়া কোকো পাউডার।

আর এক টুকরো চকলেট খাওয়ার সময় ডার্ক চকলেটই (৭০% বা এর থেকে বেশি কোকোযুক্ত) খাওয়া ভালো। চকলেটের সাথে যদি থাকে বাদাম বা শুকনো ফল তবে সেই চকলেট বেছে নিন। কারণ এর থেকে পাবেন বিভিন্ন খনিজ লবণ, ফাইবার এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট।

অন্যান্য বিভিন্ন মিষ্টি যা সম্পূর্ণ চিনি দিয়ে তৈরী হয় যেমন- লজেন্স, ললিপপ, বাতাসা, ফাজ ইত্যাদির থেকে চকলেট নিঃসন্দেহে একটি ভালো পছন্দ।

আপনি যদি সুস্থ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন এবং যদি সঠিক ডার্ক চকলেটটি বেছে নিতে পারেন তবে সপ্তাহে ১.৫ আউন্স (মাঝারি সাইজের ৪-৫ টি ব্লক) খেতে পারেন নিশ্চিন্তে।

লেখক
সৃজনী মণ্ডল
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ।

 

4,838 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *