জানেন কি শিশুকে খাওয়ানোর সঠিক কৌশল?

নিশিতা একজন চাকুরীজীবি মা; তার বাচ্চাটা ছয় মাসে পা দিলো এই সপ্তাহে। আর দশজন সাধারণ মা এর মতো নিশিতার ও মনে হচ্ছে বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দেয়া প্রয়োজন কিন্তু বাড়তি খাবার দিতে গিয়েই দেখা দিলো বিপত্তি কারণ বাড়তি খাবার দেয়ার কিছুদিন পর থেকেই হয় বাচ্চাটির পেট খারাপ নয়তো বাচ্চাটি পেট ভরে খাচ্ছে না এমন মনে হচ্ছে। আবার কখনো মনে হচ্ছে বাচ্চাটি খাবার টি পছন্দ ই করছে না। কি এক মহা ঝামেলায় পড়লো নিশিতা, কিভাবে বাচ্চাকে বাড়তি খাবারে অভ্যস্ত করবে বুঝে উঠতে পারছে না…
হ্যা উপরের এই পরিস্থিতির স্বীকার প্রায় সব নব্য মায়েরাই হয়ে থাকেন। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে কি করবেন?
আসুন জেনে নাই এমন কিছু কৌশল যা আপনার শিশুকে বাড়তি খাবারে অভ্যস্ত করে তুলবে।
বাড়তি খাবারে সন্তানকে অভ্যস্ত করে তুলতে কাজে লাগাতে পারেন এই কৌশল গুলো-সুযোগমত একটা সময় ঠিক করে বাচ্চাকে বাড়তি খাবার খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে।কিছু বিষয় মানলে বাড়তি খাবার দেওয়া সহজ হয়।যেমন-
১.শুরুতে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে অল্প করে অন্য খাবার খাওয়াতে হবে।
২.বাচ্চা কতটুকু খেলো তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সে নতুন খাবারের গঠন ও স্বাদের সাথে পরিচিত হতে পারছে। কিভাবে খাবার চাবাতে হয় সেটাও শিখে যাচ্ছে।
৩.বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। কারন বুকের দুধ থেকে তারা বেশি শক্তি পেয়ে থাকে।
৪.শিশুর বাড়তি খাবারে লবন ও চিনি যোগ করা উচিত না। কারন লবনজাতীয় খাবার শিশুর কিডনির জন্য ক্ষতিকর এবং চিনিজাতীয় খাবার দাঁত ক্ষয়ের জন্য দায়ী।
৫.শিশুকে বাড়তি খাবার খাওয়ানোর  সময় অবশ্যই তার জন্য সময় নিয়ে খাওয়াতে হবে।
৬.শিশুকে খাওয়ানো নিয়ে জোর করা যাবে না। যদি প্রথমে খেতে না চায় অপেক্ষা করতে হবে, ১-২ চামচ করে দিতে হবে প্রয়োজনে ২-১  দিন পর বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুর পেট ভরে গেলে সে খেতে না চাইলে কম খাওয়া হয়েছে ভেবে জোর করা যাবে না।
৭.ধৈর্য ধরে খাওয়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের স্বাদের খাবার দিয়ে দেখতে হবে বাচ্চা কোনটা খেতে চায় বা পছন্দ করে অথবা কোনটা খেতে চায় না। কোন কোন দিন তারা কম খেতে পারে, অথবা বেশি খেতে পারে , কোন দিন তারা খেতে নাও চাইতে পারে,  এগুলো নিয়ে চিন্তার কারন নেই। এটা স্বাভাবিক ঘটনা।
৮.শিশুরা অনুকরনপ্রিয়। তাই পরিবারের সবার সাথে বসে খাওয়ালে বাচ্চার খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। তাছাড়া, খাবার খাওয়ানোর সময় বাচ্চার হাতে যদি খাবার বা চামচ দেওয়া যায় তাহলে খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
৯. টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ইত্যাদির সামনে বসিয়ে খাবার খাওয়ালে শিশু খাবারের চেয়ে যন্ত্রের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়ে পড়ে। তাই যথাসম্ভব এগুলো থেকে দূরে রেখে বাচ্চাকে সময় নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে। তাতে মায়ের সাথে বাচ্চার সম্পর্কও গাঢ় হয়।
শিশুকে বাড়তি খাবার কিছু বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। সেগুলো হলো- 

  • খাবার তৈরি করার আগে হাত ও জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • গরম খাবারকে ঠান্ডা করে খাওয়াতে হবে।
  • ফলমূল, কাঁচা শাকসবজি ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়াতে হবে।
  • শক্ত ফল যেমন বাদাম,গাজর,আপেল, নারকেল, পেয়ারা এগুলো না দেওয়া ভালো।
  • গোল ফল যেমন আঙুর,টমেটো ইত্যাদিকে ছোট ছোট টুকরা করে খাওয়াতে হবে।
  • বাড়তি খাবার খাওয়ানোর পর শিশু মলত্যাগ করলে মলের কোন পরিবর্তন হয়েছে, খাবারের কোন অংশ যাচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।
  • নতুন খাবার খাওয়ানোর সময় বাচ্চার গলায় আটকে যেতে পারে,বমি করার উপক্রম হতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোন খাবার খেয়ে বমি করলে ঐ খাবার আর না দেওয়াই ভালো।
    আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ । শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে হলে তাদের সঠিক পুষ্টি  চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। আর সঠিক পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ভাবে বাচ্চাকে বাড়তি খাবার দেওয়ার কোন তুলনা হয় না।সন্তান কে সুষ্ঠু ভাবে বাড়তি খাবার খাওয়ান এবং সুস্থ রাখুন।
    লেখাঃ জান্নাতুল তাবাসসুম তুতুল
    খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ
    সম্পাদনাঃ আয়েশা সিদ্দিকা মারিয়া
    খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

 

2,051 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *