মুখের রুচি বাড়াতে আমলকি খাচ্ছেন কি?

দেশি টক  ফলগুলোর কথা চিন্তা করলে প্রথমেই যার নাম আসে,তা হলো আমলকি।   ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল এটি।এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।এই সুস্বাদু টক স্বাদের ফলটি যে শুধু ভিটামিন সি এর উৎস তা নয় বরং এটি মুখের রুচি বাড়াতেও রাখে অনস্বীকার্য ভূমিকা। আসুন জেনে নেই কিভাবে মুখের রুচি বৃদ্ধিকারক হিসেবে আমলকি কাজ করে-
আমলকিতে রয়েছে উচ্চতর ধরণের আঁশ,যা ক্ষুদ্রান্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে যার ফলে দেহ হতে সকল বিষাক্ত  উপাদান দূর হয়ে যায় এবং দেহকে হালকা অনুভূত হয় যা ক্ষুধাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।এছাড়া, আমলকি মানবদেহে প্রোটিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়,যা পরিপাক বা বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।তারই ফলশ্রুতিতে  ক্ষুধামান্দ্য দূর হয় এবং মুখের রুচি বাড়ে।
শুধু যে মুখের রুচি বাড়াতে আমলকি কার্যকরী ভূমিকা রাখে তা নয় বরং এর রয়েছে আরো নানান উপকারিতা। আসুন জেনে নেই আমলকির গুণ কীর্তন-
১.আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
২.আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
৩.এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।
৪.আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।
৫.প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
৬.আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।৭.প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
৮.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।
৯.শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
১০.ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
১১.হৃদপিন্ড,শ্বসনতন্ত্র,প্রজনন-তন্ত্র এবং রক্তসংবহনতন্ত্র সুস্থ রাখতে আমলকি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।১২.ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে আমলকি অতুলনীয়।

লেখা- আল আসমাউল হুসনা।
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান
সম্পাদনাঃ আয়েশা সিদ্দিকা মারিয়া
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান

2,531 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *