ভয় নয় , প্রতিরোধেই মিলবে করোনা থেকে মুক্তি !

সাম্প্রতিক কালে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের এক নতুন প্রজাতি আবির্ভূত হয়েছে।

করোনা ভাইরাস এমন একধরনের ভাইরাস যা সাধারণত মানুষসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শ্বাসযন্ত্রকে (মুখ, নাক, গলা) আক্রান্ত করে সর্দি, নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ধরনের ভাইরাস সবসময় আমাদের আশেপাশেই থাকে এবং আমাদের দেহে সর্দি, নিউমোনিয়া সহ নানা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।

তবে উহান করোনা ভাইরাস এত ভয়ংকর রূপ নেওয়ার কারণ এটি অন্যান্য করোনা ভাইরাস থেকে অতি দ্রুত সংক্রমিত হয় এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের জন্য এটি মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আসে।উহান করোনা ভাইরাস ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপ আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমাদের উচিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া।

সম্প্রতি বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আট জন এই ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে হতে পারে। এছাড়া আরো প্রায় প্রবাসী অনেক কেই  করোনা সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রথমেই যা করণীয় তা হল ভাইরাসের সংস্পর্শে না আসা। WHO (ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন) এর প্রণীত কিছু নিয়ম মেনে চললেই তা করা সম্ভব।এছাড়াও আমরা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারি। কিছু ভিটামিন এবং মিনারেল এক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা করে থাকে।

 ভিটামিন সিঃ
ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্টও। এটি দেহকে অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পেয়ারা ভিটামিন সি এর একটি ভাল উৎস। ১০০ গ্রামের একটি পেয়ারাতে ২৭৫ মি.গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

এছাড়াও লেবু, আমলকী, আমড়া, কমলা, জাম্বুড়া প্রভৃতি ভিটামিন সি এর ভাল উৎস।চেষ্টা করুন করোনা প্রতিরোধে প্রতিদিন ই কিছু না কিছু পরিমাণ ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে।

ভিটামিন ডিঃ

বেশীর ভাগ ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ সাধারণত শীতকালে বেশি দেখা দেয়। ধারণা করা হয় এর অন্যতম কারণ সূর্যের আলোর অভাব। সূর্যের আলো মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি উৎপন্ন করে। ভিটামিন ডি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দেহে ইমিউন কোষ তথা রোগ প্রতরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোষ উৎপাদন করে যা করোনা ভাইরাস ধ্বংস করে।

এর জন্য ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।  তৈলাক্ত সামুদ্রিক মাছ যেমন- ইলিশ, ভেটকি, রূপচাঁদা মিঠাপানির কার্প, রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, টুনা, কাচকি মাছ, গুঁড়া মাছ ইত্যাদি ভিটামিন ডি এর ভাল উৎস।করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন প্রতিদিন তার পাশাপাশি কিছুটা সময় কাটান রোদে।

খনিজ লবণঃ

ভিটামিনের পাশাপাশি কিছু খনিজ লবণও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যেমনঃ জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম।ম্যাগনেসিয়াম দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

বিভিন্ন শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ, কলা, পালং শাক, দুধ, দই প্রভৃতিতে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।জিংক দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষের স্বাভাবিক গঠনে সহায়তা করে এবং এদের অধিক কার্যক্ষম করে তোলে। ডিম, মুরগীর মাংস, যকৃৎ, দুধ, বাদাম, ডাল, চিংড়ি, কাঁকড়া জিংকের ভাল উৎস।

স্বাভাবিক কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস তৈরির মাধ্যমে সহজেইএই করোনা ভাইরাসের উপদ্রব থেকে বাঁচা সম্ভব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের এই ধরণের মারাত্মক রোগ থেকে দূরে রাখতে। তাই নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন।

লেখা-
সৃজনী মণ্ডল
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ।
সম্পাদনা-
আসিয়া রহমান মীম
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ।

1,583 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *