গরমে সুস্থ থাকতে আনারস খাচ্ছেন তো?

রিশা স্কুল থেকে ফিরেই তার মাকে ডেকে বলে সে খুব ক্লান্ত। এই গরমে স্কুল থেকে ফিরে সে প্রতিদিনই
ক্লান্ত ও নির্জীব হয়ে পড়ে। তাই তার মা তাকে প্রতিদিনই কিছু ফল খেতে বলে। কিন্তু আজ রিশা প্লেটের
দিকে তাকিয়েই বিরক্তির স্বরে বলে সে খাবে না! কারণ মা তাকে আজ আনারস খেতে দিয়েছে আর রিশা আনারস
খেতে একদম পছন্দ করে না। কিন্তু তার মা তাকে বোঝায় আনারস দেহের জন্য অন্যান্য ফলের মতই
গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল যেমন দেহের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা অনেকাংশেই
মেটায়,তেমনি বাড়তি পুষ্টির উৎস হিসেবেও এর জুড়ি মেলা ভার।
এই গরমে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আনারস যুক্ত করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আসুন জেনে নিই-

পুষ্টির অভাব দূর করেঃ
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও মিনারেলস। ভিটামিন-এ, সি এবং ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম ও
ফসফরাস এর বেশ ভাল উৎস হিসেবে আনারস সমাদৃত, যা আমাদের দেহে এসব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করেঃ
আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। যাদের বদহজম বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবে আনারস গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

আনারস ডায়রিয়ার জন্য দায়ী কিছু ব্যাক্টেরিয়ার মৃত্যু ঘটায়। তাই এই গরমে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে আনারস খুবই উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ
আনারসে রয়েছে প্রচুর ফাইবার এবং এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই সামান্য। আনারসের সালাদ বা জুস নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়ঃ
আনারসে রয়েছে ভিটামিন-এ এবং বিটা ক্যারোটিন।আমাদের চোখের একটি রোগ হচ্ছে ম্যাকুলার ডিগ্রেডেশন, যা চোখের রেটিনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আনারসের বিটা ক্যারোটিন এর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গঠন করে। প্রতিদিন আনারস গ্রহণ করলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

ইমিউনিটি বৃদ্ধিঃ
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি। এটি দেহের প্রাথমিক পর্যায়ের এন্টি এক্সিডেন্টের মধ্যে
অন্যতম ।ভিটামিন-সি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে এবং আমাদের ইমিউন সিস্টেম আরও শক্তিশালী হয়।ফলে,আমরা সহজেই যে কোন রোগে আক্রান্ত হই না।

দাঁত ও হাড় গঠন ঃ
আনারসে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের মত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, যা আমাদের দাঁত ও হাড় গঠনে
সহায়ক।

বিবিধঃ
 অন্ত্রে কৃমির উপদ্রব থাকলে আনারস এর মাধ্যমে তা হতে মুক্তি পাওয়া যায়।
 মোশন সিকনেসে আনারসের জুস বা সালাদ গ্রহণ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

একটি মাঝারি আকারের পাকা আনারসের প্রতি ১০০ গ্রামে কি পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ লবণ পাওয়া যায় তা নিম্নে তুলে ধরা হল-
1. ক্যালসিয়াম              -১৮ মি.গ্রা
2. আয়রন                    -০.৭ মি.গ্রা
3. ম্যাগনেশিয়াম           -৩২ মি.গ্রা
4. ফসফরাস                 -৯ মি.গ্রা
5. পটাশিয়াম                -১৭৫ মি. গ্রা
6. সোডিয়াম                 -১৩ মি.গ্রা
7. জিংক                      -০.২২ মি.গ্রা
8. ভিটামিন এ              -৫ মি.গ্রা
9. ভিটামিন ই               -০.১ মি.গ্রা
10. ভিটামিন সি            -৩৩.৯ মি.গ্রা
11. থায়ামিন                 -০.২০ মি.গ্রা
12. নায়াসিন                 -০.৪ মি.গ্রা
13. রিবোফ্লাভিন            -০.১২ মি.গ্রা

আনারসে বিদ্যমান এই ভিটামিন ও মিনারেলস গুলো আমাদের শরীরকে বাইরের যে কোন রোগ জীবাণুর
আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ঢালের মত কাজ করবে।তাই আমাদের উচিত খাদ্যতালিকায় অন্যান্য
মৌসুমী ফলের সাথে আনারসকেও যুক্ত করা।

লেখক

রুথিকা ইসলাম রশ্মি
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান।

 

সম্পাদনা

আল আসমাউল হুসনা
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান।

1,747 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *