বাঙ্গির সাতকাহন

সম্ভবত আমাদের দেশীয় ফলের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় এবং অবহেলিত একটি ফল হলো বাঙ্গি বা ফুটি। অনেকেই নামও শুনতে পারেন না এই ফলের। বাঙ্গির পানসে স্বাদই মূলত এই অপছন্দের প্রধান কারণ। কিন্তু পানসে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেলে এই ফলটির গুনাগুণ আমাদের অনেকেরই হয়ত অজানা। বাঙ্গি মেলন নামক একটি গোত্রের ফল। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Cucumis melo. সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে এর হরেক রকমের বৈচিত্র্য। মাস্ক মেলন, হানিডিউ মেলন, ক্যান্টালোপ, চামোই (কোরিয়ান মেলন) সহ আরো অনেক রকমের ফল এই গোত্রের অন্তর্গত। এরা সকলে একে অপরের জাতভাই। এদের মধ্যে কেউ হলুদ, কেউ সবুজ, কেউ রসালো, কেউ রসহীন, কেউ মিষ্টি স্বাদযুক্ত, কেউ বা আবার পানসে।

তবে স্বাদ ও বর্ণ যাই হোক না কেন এদের গুনাগুণ অনেক।

★প্রতি ১০০ গ্রাম বাঙ্গি থেকে পাওয়া যায়-

১৭ কিলোক্যালরি            শক্তি

৯৫ গ্রাম                        পানি

০.৮ গ্রাম                        খাদ্য আঁশ

১৭ মিগ্রা                         ক্যালসিয়াম

০.২ মিগ্রা                        লৌহ

০.০৭ মিগ্রা                      ভিটামিন ই

২১ মিগ্রা                          ম্যাগনেসিয়াম

১৪ মিগ্রা                           ফসফরাস

২১১ মিগ্রা                         পটাশিয়াম

৩ মিগ্রা                            সোডিয়াম

১০৫ মাইক্রোগ্রা.               ভিটামিন এ

১২৬০ মাইক্রোগ্রা             ক্যরোটিনয়েড

৩৩.৯ মিগ্রা                      ভিটামিন সি

২১ মিগ্রা                           ফোলেট
এবং সামান্য পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স

★বাঙ্গির গুণাগুণঃ

১। ভিটামিনে ভরপুর বাঙ্গি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২। এতে রয়েছে কিউকারবিটাসিন (cucurbitacin- A, B, E) নামক ফাইটোকেমিক্যালস, যা মানবদেহে ক্যান্সার ও টিউমার কোষ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩। বাঙ্গিতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস (যেমন: ফ্ল্যাভোনয়েডস) বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ থেকে দেহের কোষসমূহকে সুরক্ষা প্রদান করে।

৪। এটিতে উপস্থিত “মিথানলিক এক্সট্যাক্ট” প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।

৫। বাঙ্গি লিভারের কার্যকলাপকে উন্নত করে এবং লিভারে গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। তাই এটি যকৃত রোগীদের জন্য একটি উপকারী খাবার।

৬। আলসার প্রতিরোধে এটি খুবই সহায়ক।

৭। মূত্রনালির ক্ষত সারাতেও বাঙ্গি কার্যকরী।

৮। বাঙ্গি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এতে মুক্ত চিনি (Free Sugar) এর পরিমাণ অনেক কম। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী।

৯। বাঙ্গিতে বেশ ভালো মাত্রায় পটাসিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

১০। বাঙ্গি এসিডিটি কমায় ও রুচি বাড়ায়।

১১। খাদ্য আঁশ ও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

এছাড়া বাঙ্গির বিভিন্ন উপাদান মানসিক অবসাদ ও বিষণ্ণতা দূর করতেও সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের রোগীরা টুকরো করে কাটা বাঙ্গি খেতে পারেন।

আর যাদের ডায়াবেটিস ও স্থুলতা জনিত কোন সমস্যা নেই তারা বাঙ্গি টুকরো এর সাথে হালকা চিনি দিয়ে খেতে পারেন। অথবা বাঙ্গি দিয়ে আপনি ঝটপট বানাতে পারেন চমৎকার স্মুদি।

• বাঙ্গি, পাকা আম ব্লেন্ড করে বানাতে পারেন পুষ্টিকর স্মুদি। চাইলে এর সাথে ঠান্ডা দুধও যোগ করতে পারেন।

• বাঙ্গি, কয়েক টুকরো তরমুজ এবং কিছু স্ট্রবেরি দিয়েও তৈরী করা যায় দারুন স্বাদের স্মুদি। বিভিন্ন রকম ফলের স্মুদি যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকরও। এই স্মুদিগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়াবে তেমনি একই সাথে আপনাকে করবে সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

তা কি ভাবছেন! রকমারি গুণসম্পন্না এই বাঙ্গিকে নিজেদের সুস্থতার জন্য একটু তো ভালোবাসাই যায়, তাই না?

সৃজনী মণ্ডল

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

সম্পাদক

তামান্না জাহান

 

1,562 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *