বেশি ইমিউনিটি কি শরীরের ক্ষতি করে?

ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্তমানের কথা বলার সবচেয়ে জনপ্রিয় টপিক। কি খেলে ইমিউনিটি হবে ইস্পাতের চেয়ে মজবুত, চমৎকারী হার্বালে করোনাকে হারান নিমিশে – এইসব দৃষ্টিনন্দন বাক্যে কে না আকৃষ্ট হবে!

এখন প্রশ্ন হল- ইমিউনিটি কি? আমাদের শরীর যদি একটা দেশ হয়, তাহলে যেকোন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে আমাদের শরীরের নিজস্ব যে সেনাবাহিনি আছে, এটাই হল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাহলে কি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ালেই সব রোগ থেকেই নিরাপদ আমরা, যত শক্তিশালী তত ভালো?
উত্তর দিতে হলে জানতে হবে আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম সম্পর্কে। আমাদের শরীরের এই রোগ প্রতিরক্ষা সিস্টেম প্রাইমারী-Innate এবং সেকেন্ডারি-Adaptive এই দুই ভাবে কাজ করে।

Innate Immunity- যেকোনো জীবাণু আমাদের সংস্পর্শে আসা মাত্র প্রাথমিক যে বাধার মুখে পরে, সেটি হল আমাদের ত্বক, লালা, মিউকাস, পাকস্থলির এসিড ইত্যাদি দ্বারা তৈরি ব্যারিয়ার। এরপরও যদি জীবাণু থেকে যায় তখন কিছু কেমিক্যাল ফ্যাক্টর থাকে যা জীবাণুকে টার্গেট করে মেরে ফেলে। এখান থেকেও যেগুলো বেঁচে যায় তাদের জন্য আমাদের শরীর এর কিছু – নিউট্রোফিলস, APCs (Antigen Presenting Cells) থাকে যা ফ্যাগোসাইটোসিস নামক প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে আক্ষরিক অর্থেই গিলে হজম করে ফেলে।
প্রাইমারী ইমিউনিটি তাৎক্ষনিক ভাবে এক্টিভ হয় কিন্তু এটি স্বল্পমেয়াদী, অনেক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। শক্তিশালী জীবাণুর বিরুদ্ধে যদি এটি ব্যর্থ হয়, তখনি আমাদের শরীরের সেকেন্ডারী ইমিউনিটি এক্টিভ হয়।

Adaptive Immunity- এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও বেশি সুনির্দিষ্ট, কার্যকরী এবং দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয়। যেহেতু জীবাণু প্রবেশের পর লক্ষণ বুঝে রেস্পস করে তাই একে এডাপ্টিভ ইমিউনিটি (Adaptive Immunity) বলে। এখানে শরীরের শ্বেতরক্তকনিকায় অবস্থিত Bcell এবং Tcell আলাদা আলাদা ভাবে প্রতিরোধ এবং অ্যাকশন নেয়।
Bcell থেকে এন্টিবডি উৎপন্ন হতে থাকে এবং শরীর জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যাপক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়তে থাকে। অন্যদিকে, Tcell থেকে দুটি নতুন উপাদান তৈরি হয় যেখানে CD4 নামক উপাদানটি জরুরী বার্তা বাহক হিসেবে শরীরের অন্যান্য কোষকে সিগন্যাল পাঠায় প্রতিরোধ গড়তে এবং CD8 নামক উপাদানটি বেশি কিছুনা শুধু সরাসরি জীবাণুকেই মেরে ফেলে। নরমাল সময়ে জীবাণু ধ্বংসের পর এন্টিবডি বাদে অন্যান্য এই কেমিক্যাল ফ্যাক্টরগুলো নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়। কিন্তু কখনও কখনও অতিরিক্ত উৎপন্ন হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে এগুলো নিজের শরীরের কোষকেই জীবানু ভেবে আক্রমণ করে –একে অটোইমিউন রেসপন্স বলে যা অনেক সময় রোগীর প্রান হারানোর কারন হয়। এই জন্য শুধুমাত্র রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ালেই হবে না, এই বর্ধিত শক্তিকে হ্যান্ডেল করার মত করে শরীরকে তৈরি করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কার্যকরী করতে হলে প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উভয় ইমিউন রেসপন্সকেই ভালো হতে হবে। আবার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সুস্থ্য এবং সুঠাম শরীর যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন , নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দেখে, বা গাদা গাদা সাপ্লিমেন্ট খেয়ে নিজের সেই কথ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা আর নিজের ঘরে বারুদ জমিয়ে ম্যাচের কাঠি নিয়ে খেলা করার একই কথা। বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের থেকে রোগ প্রতিরোধী ডায়েট প্লান পেতে আজই যোগাযোগ করুন পুষ্টিবার্তায় (www.pushtibarta.com)।

লেখক-
পুষ্টিবিদ শামীমা অরিন ঐশী
বিএসসি, এম এস সি (খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান)
এম ফিল গবেষক (প্রান রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান)

1,118 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *