মহামারীতে বাজার-সদাই

বর্তমানে সম্পূর্ণ পৃথিবী কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করছে। এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে চাইছে।
নিজেকে, নিজের প্রিয়জনকে এবং নিজের দেশ তথা সকল বিশ্বকে এর কবল থেকে বাঁচাতে হলে আমাদের
সবাইকেই সচেতন হতে হবে নিজ নিজ জায়গা থেকে। আমরা সকলে মিলে সচেতন হয়ে যদি এর সংক্রমণের হার কমাতে পারি, তবেই মহামারীর বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমরা জয়ী হব।এ সংক্রমণের হার কমাতে হলে এর বিস্তার রোধ করা প্রয়োজন।
নভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের থেকে সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি
রাস্তাঘাটে কফ থুথু ফেললে, কোন বস্তু বা পৃষ্ঠতলের উপর হাঁচি বা কাশি দিলে, বা হাত দিয়ে নাক বা মুখ মুছে কোন কিছু স্পর্শ করলে ঐ স্থানে বা বস্তুতে ভাইরাস লেগে থাকে। পরবর্তীতে অন্য কেউ ঐ বস্তু বা স্থান
স্পর্শ করে নাকে, মুখে বা চোখে হাত দিলে তার দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির
কাছাকাছি আসলেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
সাধারণত এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেহে ১৪ দিন পর্যন্ত কোন লক্ষ্মন বা উপসর্গ দেখা দেয় না।
অনেকের দেহে এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কোন লক্ষ্মণই দেখা দেয় না। কিন্তু উপসর্গ না থাকলেও
ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে সুস্থ ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে।
এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হচ্ছে বাজার।কোভিড-১৯ মহামারীতে কিভাবে
বাজার সদাই করবেন, বাজার করার সময় কী কী জিনিস খেয়াল রাখবেন, এবং বাজার বাসায় আনার পর কীভাবে পরিষ্কার করে তাকে জীবাণুমুক্ত করবেন চলুন জেনে নেয়া যাক।

কীভাবে বাজারে যাবেন –
১। বাজারে বারবার যাওয়াটা একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। চেষ্টা করবেন সবজি, ফল, মাছ-মাংস কিনতে যেন সপ্তাহে এক বা দুই দিনের বেশী বাজারে যেতে না হয়।
২। মাসের বাজার (চাল-ডাল, তেল ও অন্যান্য শুকনো খাবার এবং সাবান, দেশলাই, ওষুধ ইত্যাদি) করতে মাসে একবারই বাজারে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
৩। বাজারে যাওয়ার আগে সঠিকভাবে মাস্ক, গ্লাভস এবং বড় চশমা পরে বাজারে যাওয়ার জন্য তৈরী হবে।
মাথার সব চুল ঢেকে নেবেন। স্যান্ডেল বা খোলা জুতার বদলে বন্ধ জুতা পড়বেন।

কীভাবে বাজার করবেন-
১। বাজারে যেয়ে কখনো মাস্ক, গ্লাভস বা চশমা খুলবেন না।
২। কোনকিছুর গন্ধ শুকবেন না
৩। দোকানদার এবং অন্যান্য ক্রেতাদের থেকে দুই হাত দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।
৪। খোলা কোন খাবার কিনবেন না। 

৫। কোন ফল কেটে কিনবেন না।
৬। ফাটা কোন সবজি বা ফল কিনবেন না।

বাজার বাসায় আনার পর কী করবেন-
১। বাজার বাসায় এনে প্রথমেই বাইরের সব কাপড় চোপড় সাবান দিয়ে ভিজিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
২। মাস্ক ও গ্লাভস ফেলে দেবেন বা চশমার সাথে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
৩। নিজে সাবান দিয়ে গোসল করবেন।
৪। যে ব্যাগে করে বাজার নিয়ে আসবেন তা ফেলে দেবেন বা সাবানে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলবেন।

ফল সবজি ও অন্যান্য পণ্য ধোয়ার নিয়ম-
১। কৌটাজাত পণ্যসমূহ একটি কাপড় ও ডিসইনফেক্টেন্ট দিয়ে মুছে ফেলবেন।
২। সবজি ও ফল কল ছেড়ে পড়ন্ত পানির নিচে ধরে ভাল করে ধুবেন। এগুলো ধোওয়ার সময় সাবান বা কোন ডিসইনফেক্টেন্ট ব্যবহার করবেন না।


৩। ডিম সাবান দিয়ে ঘষে ধুয়ে নেবেন।
৪। মাছ মাংস কাটার সময় মাস্ক ব্যবহার করবেন।
৫। মাছ মাংস কেটে লবণ ও পানি দিয়ে ধুয়ে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন।
৬। যেসব পণ্য ধোওয়া যাবে না সেগুলো ৩ থেকে ৪ দিন এমন স্থানে রেখে দিন যেখানে তা কেউ স্পর্শ করবে না। এবং ৩-৪ দিন পর তা ব্যবহার করুন।

খাবার রান্না করার সময়-
১। খাবার রান্না করার আগে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে তারপর খাবার তৈরী করবেন।
২। সকল উপকরণ ধুয়ে কেটে তারপর খাবার রান্না করবেন।


৩। কাঁচা উপকরণ ধরে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে লবণ, মশলা ও অন্যান্য জিনিস ধরবেন।
৪। কাঁচা খাবার ও রান্না করা খাবার একস্থানে রাখবেন না।
৫। খাবার সঠিক তাপমাত্রায় সুসিদ্ধ করে রান্না করবেন।
৬। সবসময় সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা বাসন-কোসন ব্যবহার করবেন।

মনে রাখবেন কখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তু কিনবেন না। এতে বাজারে সংকটের সৃষ্টি হয়। অনেকে তার অতি প্রয়োজনীয় বস্তু কিনতে পারেন না। আমাদের উচিত সকলের কথা চিন্তা করে সকলে মিলে বাঁচার চেষ্টা করা।

আমরা সকলে এই নিয়মাবলী গুলো মেনে বাজার করব এবং অতীব প্রয়োজন না হলে বাজারে যাব না। উক্ত
নিয়মাবলী মেনে চললে আমরা এই ভাইরাসের সংক্রমণ হার কমাতে পারব।

আমাদের সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এই মহামারী দূর হবে, নতুবা নয়।

লেখক-

সৃজনী মণ্ডল

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান

সম্পাদনায়-

আল আসমাউল হুসনা,

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান।

882 total views, 6 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *