ওজন কমাতে জুড়ি নেই মিক্সড ফলের!

ফলের সালাদ হচ্ছে এমন এক ধরনের খাবার যেটাতে বিভিন্ন ধরনের ফল থাকে এবং যেকোন
সময়ের খাবারের সাথে পরিবেশন করা যায়। আমাদের খুব পরিচিত কতগুলো ফল সহজেই শরীরের
ওজন হ্রাসে ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে।
ফল হলো বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন,খনিজ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর ভান্ডার। একটি ফলের
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেভাবে কাজ করবে, কয়েকটি ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসাথে কাজ
করলে আরো বেশি কার্যকর হবে । আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমরা যদি মিক্সড
ফ্রুট রাখতে পারি তাহলে এটি আমাদের শরীরকে যেমন সুস্থ রাখবে তেমনি শরীরের প্রয়োজনীয়
শক্তিরও যোগান দিবে আর পাশাপাশি আমাদেরকে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করা থেকে বিরত
রেখে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।


ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ কতগুলো ফল একত্র করে সহজেই মিক্সড ফ্রুট তৈরি করা যায়।
এই বিভিন্ন ধরণের ফলের মধ্যে থাকতে হবে-
 কিছু টক বা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (যেমন: পেয়ারা,কমলা,মাল্টা,বরই,আমলকি ইত্যাদি),
 ফ্রী স্যুগার সমৃদ্ধ ফল (যেমন: জাম,স্ট্রবেরি,ব্লুবেরি,কিউই ফল,কলা, লিচু ইত্যাদি),
 পানিযুক্ত ফল (যেমন: তরমুজ,নাশপাতি,আনারস ইত্যাদি),
 বেশি ফাইবারযুক্ত ফল (যেমন: আম,আপেল,পেঁপে,লাল আঙুর,খেঁজুর ইত্যাদি)
এই ৪ ধরণের ফল থেকে আমরা কয়েকটি ফল নিয়ে ফ্রুট সালাদ তৈরি করে খেতে পারি কিংবা লো
ফ্যাট মিল্ক দিয়ে চিনি ছাড়া কাস্টার্ড তৈরি করেও খেতে পারি। মিক্সড ফলের সালাদ থেকে
একইসাথে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, মিনারেলস যেমন পটাশিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন এবং প্রচুর
পরিমানে পানিও পাওয়া যায়।
ফল পুষ্টিকর উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। অর্থাৎ এটি কম ক্যালরি ও উচ্চ পুষ্টি উপাদানে যেমন
ভিটামিন,মিনারেলস, ফাইবারে পূর্ন। উচ্চ ক্যালরির খাবার থেকে যদি কম ক্যালরির ফল
নির্বাচন করা হয় তাহলে খ্যালরি গ্রহন কম হবে যা ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজনীয়।
উপরন্তু, ফলে প্রচুর পানি ও খাদ্য আঁশ রয়েছে যা পাকস্থলী ভরা রাখতে সাহায্য করে। প্রতি
১০০ গ্রাম আপেলে ২.৪ গ্রাম খাদ্য আঁশ রয়েছে যা দৈনিক খাদ্য চাহিদার ১০% পূরন করে।
কয়েকটি গবেষনায় পাওয়া যায় খাদ্য আঁশ ক্ষুধা কমাতে এবং কম খাদ্য গ্রহনে ভূমিকা রাখে।
তাছাড়া আরো একটি গবেষণায় ২৫২ জন মহিলার উপর ২০ মাস ধরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, যারা
খাদ্য আঁশ বেশি পরিমানে গ্রহন করেছিল তাদের শরীরের ওজন ও ফ্যাট বাড়ার ঝুঁকি যারা কম
খাদ্যাশ গ্রহন করেছিল তাদের থেকে কম।

ফলের মধ্যে ফ্রুক্টোজ,গ্লুকোজ ও সুক্রোজের মিশ্রনরূপে প্রাকৃতিক চিনি বিদ্যমান। একারনে
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে হয়তো ফল বেশি খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা আছে । কিন্তু, ফলের
উচ্চ আঁশ ও পলিফেনল উপাদান গ্লুকোজ ও সুক্রোজের জন্য রক্তের সুগারের বৃদ্ধিকে কমিয়ে
দেয়। অর্থাৎ, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ফলের চিনি তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
তবে শুধু ফলের জুস বানিয়ে খেলে আঁশ বাদ পড়ে যায় এবং ক্যালরিও ফলের সাধারন ক্যালরির
চেয়ে বেড়ে যায়। একারনে ফলের জুস না খেয়ে ওজন কমানোর জন্য মিক্সড ফলের সালাদ খাওয়াই
শ্রেয়।
মিক্সড ফ্রুট আমাদের খাবারে একঘেয়েমিতা দূর করে,শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ায়,মেটাবলিজমকে ত্বরান্বিত করে,দেহ ও মনকে সবসময় সচল ও উৎফুল্ল রাখে এবং
পাশাপাশি ওজন হ্রাসেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। শুধু একটি ফল খাওয়ার চেয়ে আমাদের ডায়েট
প্ল্যানে যদি মিক্সড ফলের সালাদ রাখা যায় এবং সাথে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা যায়,
তাহলে শরীরের ওজন সহজেই কমানো সম্ভব।

লেখক –
মৌমিতা হক তন্বী
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ
সম্পাদনা-
জান্নাতুল তাবাসসুম
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

1,609 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *