পিরিয়ডে এভয়েড করবেন কোন খাবার ও কেন?

পিরিয়ড মেয়েদের জীবনের একটি সাধারণ মাসিক ঘটনা। এই সময়ে দেহে নানা ধরনের অস্বস্তি অনুভব হয়।
যদিও এই অস্বস্তি সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়, তবুও অস্বস্তি যেন না বাড়ে সেজন্য কিছু খাবার এড়িয়ে
চলা প্রয়োজন।
চলুন জেনে নিই খাবার গুলা সম্পর্কে –
১. লবণ:
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ লবণ
শরীর থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে পিরিয়ডের রক্তের প্রবাহ কমে যায়। রক্ত জমাট বেধে প্রচন্ড ব্যাথা সৃষ্টি
করতে পারে। তাই সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।


২.অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার:
বেশি চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের হরমোনকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। এতে পিরিয়ডের ব্যাথা হওয়ার আশংকা থাকে। তাই এ সময়ে যাবতীয় ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করতে হবে। 
৩.রেড মিট (পশুর মাংস):
পিরিয়ডের সময় মেয়েদের দেহে প্রোস্টাগ্ল্যানডিনজ নামক হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোন জরায়ুকে
সংকুচিত করে জরায়ু প্রাচীর থেকে ধ্বংসাবশেষ দূর করে। বেশি পরিমাণ প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন আবার পিরিয়ডে
ব্যাথা তৈরি করতে পারে। পশুর মাংসে উচ্চ লৌহের পাশাপাশি উচ্চ পরিমাণে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনও থাকে।
৪. চিনি:
চিনি শরীরে অতিরিক্ত শক্তি দেয়। পিরিয়ডের সময়কার মুড সুইং শরীরের অতিরিক্ত শক্তির কারণে প্রবল
হয়ে উঠতে পারে। তাই যাবতীয় কোল্ড ড্রিংকস ও অতিরিক্ত চিনি এ সময় বর্জন করতে হবে। 
৫. কফি:
কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন লবণের মত শরীর থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে ব্যাথার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার
আশংকা থাকে। যদিও কফি মাথা ব্যথা দূর করে, তবু এই পানিশূন্যতা মাথা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সাথে হজমক্রিয়ায়ও সমস্যা করতে পারে। এ সময় শরীর স্বাভাবিক ভাবেই দুর্বল থাকে, তার ওপর হজমে সমস্যা হলে শরীরে পুষ্টি উপাদানে ঘাটতি দেখা দেয়। 
৬. এলকোহল:
এলকোহল সর্বদাই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটি শরীরে পানিশূন্যতার জন্য দায়ী। এতে করে মাথা ব্যাথা, মাথা ঘুরানো, বমি বমি ভাব, অবসাদ, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৭. অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার:
খাবারে অতিরিক্ত মসলা পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া, হজমে সমস্যা করে। পিরিয়ডের সময়ে হজমে সমস্যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই যাবতীয় ভাজা পোড়া ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৮. দুগ্ধজাত খাবার:

আশ্চর্য হলেও সত্য যে, দুধে বিদ্যমান অ্যারাকিডনিক এসিড এ সময়ে ব্যাথার উপদ্রব করতে পারে৷ তাই দুগ্ধ
জাতীয় খাবার যাথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া ভালো। তবে এক্ষেত্রে দই খাওয়া যেতে পারে।

লেখক –
রাইসা বিনতে হাসনাত
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

সম্পাদনা-
জান্নাতুল তাবাসসুম
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

947 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *