আম-দুধের বাহারি গুণ

চলছে আমে মৌসুম, পাকা আমের মিষ্টি সুবাসে ফলের দোকান গুলো যেন মৌ মৌ করছে। পাকা আম যেন স্বাদের দিক থেকেও সব ফলের রাজা, তেমনি পুষ্টিগত দিকেও এটি অনন্য। ভিটামিনে ভরপুর এই পাকা আমের সাথে যদি যুক্ত হয় আদর্শ খাদ্য দুধের পুষ্টি তাহলে ত একদম সোনায় সোহাগা!!! খাবারের শেষ পাতে আম-দুধ দিয়ে ভাত কিংবা প্রখর রৌদ্রের দিনে বাইরে থেকে এসে এক গ্লাস ঠান্ডা ঠান্ডা আম-দুধের জুস – যেটাই হোক না কেন, আম-দুধের এই মিশেল টা আমাদের অনেকেরই খুব পছন্দ। সুস্বাদু এই মিশেলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতে সম্পর্কে চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাকঃ

★এক কাপ বা ২২৬গ্রাম আম-দুধে (ম্যাংগো মিল্কশেইকে) আছেঃ

  • শক্তি- ২৫৭ কিলোক্যালরি
  • টোটাল কার্বোহাইড্রেট – ৪০ গ্রাম
  • খাদ্য আঁশ- ১.২ গ্রাম
  • স্যুগার- ৩৩ গ্রাম
  • প্রোটিন- ৬ গ্রাম
  • ফ্যাট- ৮.৪ গ্রাম
  • কোলেস্টেরল – ৩৩ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম- ১০০ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম – ৩৬৭ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ – ২০%
  • ভিটামিন সি- ৩৩%
  • ক্যালসিয়াম – ২১%
  • লৌহ- ১%

★উপকারিতাঃ

১. আম-দুধের অনেক উপকারিতার মধ্যে অন্যতম হলো এটি খুব দ্রুত দেহে শক্তি সরবরাহ করে। এত এতে উপস্থিত সহজেই রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে, তাই দেহে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহের প্রয়োজন হলে একটা ম্যাংগো মিল্কশেইক হতে পারে আম প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে প্রিয় এনার্জিবুস্টার।

২. দৈনিক চাহিদার প্রায় ২০% ভিটামিন এ এবং প্রায় ৩৩% ভিটামিন সি পাওয়া যায় ২২৬গ্রামআম-দুধ থেকে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া, আম-দুধ বিভিন্ন ধরনের পলিফেলন বিশেষত ম্যাংগিফেরিন (mangiferin) এর খুব ভালো উৎস। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহের কোষ গুলোকে সুরক্ষা প্রদান করে।

৩. আম ক্ষারীয় প্রকৃতির এবং খাদ্য আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় আম-দুধ দেহে অম্ল ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া, এতে বিদ্যমান টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড ও এনজাইমসমূহ হজম প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক।

৪. তারুন্য ধরে রাখতে আম দুধের জুড়ি নেই। আম দুধ ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর বেশ ভালো উৎস, যা কোষ সমূহকে জারণের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়ে ত্বককে বিভিন্ন সমস্যা থেকে দূরে রাখে, বলিরেখা পড়তে দেয়না এবং প্রজননক্ষমতাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

৫. যাদের রক্তাল্পতার সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি একটি হতে পারে একই সাথে উপকারী ও উপাদেয়। আম-দুধে থাকা লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক।

৬. পটাশিয়াম হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে আম-দুধ তাই আমাদের হৃদস্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি।

তবে যাদের ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্যের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে আম-দুধ দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমানে রাখা জরুরি, কেননা এতে প্রচুর পরিমানে ফ্রি সুগার রয়েছে যা রক্তে খুব দ্রুত গ্লুকোজ লেভেল বৃদ্ধি করে।

লেখকঃ তামান্না জাহান

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

576 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *