মাছের পুষ্টিগুণ

বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। তাই, আমাদের দেশে রয়েছে নানারকম মাছ। আমাদের
দেশের মানুষের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় মাছ অপরিহার্য। কথায় আছে মাছে ভাতে
বাঙালি।

মাছ একটি উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার। এটি প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনের উত্তম উৎস
এছাড়াও মাছে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড,
সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।

একজন ব্যক্তির সারাদিনের ক্যালরি চাহিদার ১২-২০% প্রোটিন জাতীয় খাদ্য থেকে আসা
উচিত। এবং প্রোটিনের এই চাহিদা সহজেই মেটাতে পারে মাছ।

মাছের উপকারিতা-
১।মাছ একটি সহজপাচ্য খাদ্য। যেকোন বয়সের মানুষ কোন সমস্যা ছাড়াই মাছ খেতে
পারে। এটি সহজলভ্যও বটে।
২।মাছ ভিটামিন এ এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস যা দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে।
৩।সামুদ্রিক মাছ এবং কিছু মিঠাপানির মাছ খাওয়ার ফলে শরীরে DHA নামক ওমেগা-
৩ ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বাড়ে, যার ফলে স্মৃতি শক্তি ভাল থাকে। এছাড়াও এই DHA
শিশুদের মস্তিষ্ক ও দৃষ্টির বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৪।গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাছ খুব জরুরি। গর্ভস্থ ভ্রুনের চোখ এবং মস্তিষ্কের গঠনে
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তবে, গর্ভাবস্থায় অবশ্যই সামুদ্রিক মাছ
পরিহার করতে হবে কেননা এতে ভারী ধাতুর পরিমাণ বেশি থাকে যা গর্ভস্থ শিশুর
জন্য ক্ষতিকর।
৫।মাছে থাকা ভিটামিন ডি দেহে ক্যালসিয়ামের শোষণ হতে সাহায্য করে। এছাড়াও
ভিটামিন ডি ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৬।মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
৭।মাছে থাকা PUFA শিশুদের হাঁপানি রোগ প্রতিরোধ করে।
৮।মাছের PUFA বয়স্কদের অ্যালঝেইমার রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৯।মিঠাপানির ছোট মাছ যেমন- মলা, পুঁটি ইত্যাদি ভিটামিন ও খনিজ লবণে ভরপুর
যা দেহে ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা মেটাতে সহায়ক।
১০।ছোট মাছের কাঁটায় ক্যালসিয়াম থাকে যা। শিশুদের হাড় গঠনের জন্য উপকারী।
বড়দের জন্য ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছোট মাছ। ছোট মাছ খাওয়ার
সময় এর কাঁটা না ফেলে খাওয়া উচিত। এছাড়াও এতে আছে ফ্লোরিন যা মজবুত
হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
১১।মাছে থাকা সেলেনিয়াম থাইরয়েড ফাংশনকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
১২।মাছ লৌহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মাছের লৌহ সহজে শোষিত হয়ে অ্যানিমিয়া
প্রতিরোধ করে।
১৩।সামুদ্রিক মাছ আয়োডিনের উৎস, যা গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ করে, শিশুদের
মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে এবং থাইরয়েড ফাংশনকে উন্নত করতে সাহায্য
করে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সপ্তাহে প্রায় ২৮০ গ্রাম মাছ খাওয়া উচিত। যেকোন
বয়সের জন্যই মাছ একটি পুষ্টিকর ও উপাদেয় খাদ্য। শিশুদের সাত মাস বয়স
থেকেই মাছ খাওয়ানো শুরু করা উচিত। এতে সে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
পায় এবং মাছের স্বাদের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠে।

লেখক-

আদিবা কবীর সৃষ্টি

সৃজনী মণ্ডল

336 total views, 18 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *