ডিম কথন

ডিম আমাদের খাদ্যতালিকার “আদর্শ খাদ্য” সমূহের মধ্যে অন্যতম। ভিটামিন সি ব্যতীত অন্যান্য প্রায় সকল পুষ্টি উপাদান এতে আছে। সকল বয়সের মানুষের জন্য এটি একটি সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য।

ডিমের উপকারিতা

* একটি সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন- এ, ভিটামিন- বি৫, ভিটামিন- বি১২, ফসফরাস এবং সেলেনিয়াম। 

এছাড়াও আছে ভিটামিন- ডি, ভিটামিন- ই, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক। 

ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন- ডি হাড়কে মজবুত করে। 

জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ মিউকাস স্তরের সুরক্ষা প্রদান করে জিংক। এবং নানারকম রোগ থেকে অন্ত্রকে রাখে সুরক্ষিত। 

একটি ডিম থেকে প্রায় ৭৭ ক্যালোরি এবং ৬ গ্রাম প্রোটিন ও ৫ গ্রাম স্নেহ আসে।

* ডিমে কোলেস্টেরল বেশি তবে এটি রক্তের কোলেস্টেরলে বিরূপ প্রভাব ফেলেনা।

 * ডিম খাওয়া HDL (যাকে সকলে ভালো কোলেস্টেরল নামে চেনেন) বৃদ্ধির দূর্দান্ত উপায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬ সপ্তাহ প্রতিদিন ২টি করে ডিম খেলে HDL এর মাত্রা ১০% বৃদ্ধি পায়।

* ডিম কোলিনের সেরা উৎসগুলোর মধ্যে একটি । একটি ডিমের মধ্যে প্রায় ১০০ মি গ্রা এর বেশি পরিমাণে এই পুষ্টি উপাদান থাকে। কোলিন 

  • আমাদের নিউরোট্রান্সমিটার গঠনে সাহায্য করে 
  • ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, 
  • মন ভালো থাকে, 
  • বিষণ্ণতা কমে, 
  • মাংসপেশীর দুর্বলতা হ্রাস পায় এবং 
  • মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

* ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন এবং জিক্সানথিন থাকে। এই উপাদানদ্বয় আমাদের চোখের জন্য প্রাকৃতিক সানগ্লাসের কাজ করে। 

  • চোখকে ক্ষতিকর UV রশ্মি থেকে রক্ষা করে,
  • মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর ব্লু লাইট থেকে চোখকে রক্ষা করে, 
  • দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। 

* মুরগীর খাদ্য ও বাসস্থানের ওপর নির্ভর করে ডিমের আরো দুইটি পুষ্টি উপাদান। মুরগীকে যদি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো হয় তবে তার ডিমে এই দুইটি পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি থাকে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে হৃদয়কে রাখে নীরোগ।

এছাড়াও দেশি মুরগীর ডিমে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন এ কেননা এরা রোদে ঘুরে বেড়ায়। 

এসকল ডিমের কুসুম গাঢ় কমলা রঙের হয়ে থাকে।

ডিম সকলের জন্য

গর্ভাবস্থায়   

ভ্রূণের সাধারণ বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গর্ভাবস্থায় কোলিন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও গর্ভবতী মায়ের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত পুষ্টিচাহিদা পূরণ করতে অনেকাংশে সাহায্য করে।

শৈশবে 

ডিম শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সম্পন্ন খাবার । এটি বাচ্চাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারুণ্যে

ডিম আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি  তরুণদের বিষণ্ণতা কাটাতে সাহায্য করে। কাজের স্পৃহা বাড়ায়, চোখকে রাখে সুরক্ষিত। মেয়েদের রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা করতে পারে ডিম। 

মধ্যবয়সে 

অনেকেই এ বয়সে এসে ডিম খেতে ভয় পান। তবে এই বয়সেও ডিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরঞ্চ গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়ম মেনে ডিম খান তাদের ক্ষেত্রে ডায়বেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমতে পারে। 

বার্ধক্যে  

লুটেইন এবং জিক্সানথিন চোখের ছানি হ্রাস করে এবং বার্ধক্য জনিত অবক্ষয়ের অগ্রগতি কমিয়ে দেয়।

ডিমের এই গুণাগুণসমূহ পেতে প্রতিদিন সকলের পাতে থাকুক একটি করে ডিম।

 

লেখক- তাহেরা বারী বন্যা

সম্পাদক- সৃজনী মণ্ডল

751 total views, 6 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *