সহজে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিস হলো হরমোনের অভাবজনিত একটি রোগ। আমাদের যে অগ্নাশয় হতে নিঃসৃত ইনসুলিনের অভাব বা এর কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণে হয়ে থাকে। আমরা জানি ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য নয় কিন্তু এটি প্রতিরোধযোগ্য।
অনেকেরই ধারণা আমার মা বাবার ডায়াবেটিস আছে। তার মানে আমার অবশ্যই হবে। কিন্তু জীনগত ফ্যাক্টর দায়ী থাকার পাশাপাশি পরিবেশগত কিছু ফ্যাক্টর যেমনঃ সংক্রমণ, হতাশা, খাদ্যাভ্যাস, বয়স, জীবনধারণ, ইমিউনোলজিক্যাল ফ্যাক্টরসহ কিছু ফ্যাক্টরও সমানভাবে জড়িত। বর্তমানে ডায়াবেটিস একটা মহামারী রূপ নিয়েছে এর কারণ হলো পরিবেশগত পরিবর্তন।
ডায়াবেটিস যেন না হয় বা যেন পিছিয়ে নেয়া হয় কিছু নিয়ম মানতে হয়। যেমনঃ
১। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
২। শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা থাকা যাবে না।
৩। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে হবে না।

আমরা দক্ষিণ এশিয়ানরা প্রধানত শর্করা জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি। এক প্লেট ভর্তি ভাতের সাথে ছোট্ট এক বাটি সবজি। কিন্তু এই স্টাইলটা পুরোটাই উল্টে দিতে হবে। প্লেটের অর্ধেক সবজি, এক চতুর্থাংশ ভাত আর এক চতুর্থাংশ আমিষজাতীয় খাবার রাখতে হবে। এভাবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে একজন মানুষের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।
এসব কিছুর পরও ডায়াবেটিস হলে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিভাবে করবেন?

ধরুন আপনার ডায়াবেটিস হলো। সারাজীবন আপনার এর সাথে বাস করতে হবে। ডায়াবেটিস আপনার শত্রু। শত্রুর সাথে বাস করতে হলে সে কী কী ক্ষতি করতে পারবে তা আগে জানতে হবে। ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন রক্ত কোষের ভিতরে ঢুকাতে পারে না। ফলে রক্তের মধ্যে গ্লুকোজ ঘুরতে থাকে। রক্তের মধ্যেই গ্লুকোজ লেবেল বেড়ে যায়, রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়। ফলে দেখা যায় হার্টের সমস্যা হয় বা কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা স্ট্রোক হয়, কিডনি ডিজিজ, চোখের রক্তনালী ব্লক হয়ে চোখ অন্ধ হয়, পায়ের রক্তনালীও ব্লক হতে পারে। ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করতে প্রথমে ডাক্তার হতে নিয়ন্ত্রণ মাত্রা জেনে নিতে হবে। একেক জন রোগীর ক্ষেত্রে একেক রকম। তবে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে খালি পেটে ৬মিলিমোল/ডেসিলিটার, খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর শর্করা মাত্রা ৮ মিলিমোল/ডেসিলিটার আর গড় সুগার ৭% রাখলে ভালো হয়।

শুধু মেডিসিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এর জন্য ৩ টি নিয়ম মানতে হবে। 3D উপায়ে। অর্থাৎ
Discipline – সুশৃঙ্খল জীবনযাপন
Diet – খাদ্যাভ্যাস
Drug – ঔষুধ

Drug আসার আগের দুইটি Discipline আর Diet এই দুটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি।
প্রথমত, আপনাকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে পছন্দ না করলে সাঁতার কাটতে পারেন বা সাইকেল চালাতে পারেন। যেটাতে আনন্দ পান তাইই করবেন।
দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে হবে। শর্করা পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অনেকেই ভেবে বসেন যে দুইবেলা রুটি না খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হয় না। কথাটা ভুল। রুটির বদলে ভাত খেলেও পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবেন। কিছু সতর্কতাও আছে। ভাতের প্লেট সাইজে ছোটটা বাছাই করেন, টেলিভিশন দেখে খাবার খাওয়া যাবে না। খাবারকে ৬ টি মীলে ভাগ করে খেতে হবে। ৩ টি প্রধান খাবার – সকাল, দুপুর আর রাতে। আর ৩ টা স্ন্যাকস – সকাল ১১ টায়, বিকাল ৫ টায়, রাতে ঘুমানোর আগে হালকা খাবার।
নিয়মতান্ত্রিক সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলেই আপনার ভিত্তি মজবুত হয়ে যাবে। তারপরও যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত না হয় অবশেষে মেডিসিন নিতে হবে। ডাক্তার শুধু ওষুধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দিবে বাকী কাজ রোগীকেই করতে হয়। সবচেয়ে ভালো হয় একটা ডকুমিটার কিনে বাসায় সপ্তাহে কমপক্ষে একবার যেন সুগার লেবেল টেস্ট করা হয়। ৩ মাস পরপর ডাক্তারের থেকে মাত্রা চেক করে নিতে হবে।
এভাবেই সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ থাকতে পারবেন।

লেখা
আছিয়া(মিম)
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

572 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *