আপেল সিডার ভিনেগার দিনে কতটুকু পরিমাণে নিরাপদ ?

বহুদিন থেকে আপেল সিডার ভিনেগার ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, পলি সিসটিক ওভারি জটিলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জনপ্রিয় একটি ঘরোয়া ঔষধ।

আপেল সিডার ভিনেগারের অনেকগুলি সম্ভাব্য ব্যবহার সহ, প্রতিদিন অ্যাপল সিডার ভিনেগার কত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত তা জানা একটু জটিল।

‘পুষ্টিবার্তা’ ওয়েব সাইটের এই আর্টিকেলটিতে আমরা আপেল সিডার ভিনেগারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশয়ক উপকারী গুনগুলির পেতে আপনার কতটা আপেল সিডার ভিনেগার পান করা উচিত এবং পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি এড়ানোর সর্বোত্তম উপায়গুলি নিয়েই আলোচনা করব।

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে আপেল সিডার ভিনেগারের নিরাপদ ডোজঃ এটি নিয়মিত গ্রহণ পরিতৃপ্তির অনুভূতি বাড়িয়ে দেয় যা সারা দিন খাওয়া খাবারের পরিমাণ হ্রাস করে ওজন হ্রাস করতে পারে।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিন মাস ধরে প্রতিদিন এক বা দুটি টেবিল চামচ (15 বা 30 মিলি) আপেল সিডার ভিনেগার ওজন প্রাপ্তবয়স্কদের যথাক্রমে গড়ে 2.6 এবং 3.7 পাউন্ড (1.2 এবং 1.7 কেজি) হারাতে সহায়তা করে।
প্রতিদিন দু’টেবিল-চামচ যারা অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণ করেনি তাদের তুলনায় তিন মাসে প্রায় দ্বিগুণ ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করতে দেখা গেছে।
আপনি এটি এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে এবং খাবারের আগে এটি পান করতে পারেন। প্রকৃত ডায়েট প্লান এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তনের সাথে একত্রিত হলে আপেল সিডার ভিনেগার ওজন হ্রাসে সহায়তা করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

২. রক্তের গ্লুকোজ লেভেল এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আপল সিডার ভিনেগার ডোজঃ
অ্যাপল সিডার ভিনেগার প্রায়শই রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক উপায় হিসাবে সুপারিশ করা হয়, বিশেষত ইনসুলিন রেসিস্টেন্ট লোকদের জন্য।
যদি উচ্চ-কার্ব খাবারের আগে গ্রহণ করা হয়, আপেল সিডার ভিনেগার পেট খালি হওয়ার হারকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ স্পাইকগুলি নিয়ন্ত্রণ করে ।
এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বাড়ায়, যা আপনার শরীরের রক্ত থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে সিস্টেমের বাইরে পাঠায় এবং আপনার কোষগুলিকেও আরও গ্লুকোজ সরাতে উদবুদ্ধ করে, এইভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে।মজার বিষয় হল, এই প্রভাবগুলির জন্য কেবলমাত্র অল্প পরিমাণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার প্রয়োজন।
অনেক রিসার্চ থেকে দেখা যায়, খাবারের আগে চার চা চামচ (20 মিলি) আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণের ফলে খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস হয়েছে।

এটি কয়েক আউন্স পানির (আধা গ্লাস) সাথে মিশ্রিত করে গ্রহন করা উচিত এবং উচ্চ-কার্ব খাবারের ঠিক আগে খাওয়া উচিত। লো কার্ব বা উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারের আগে গ্রহণের সময় অ্যাপল সিডার ভিনেগার রক্তে চিনির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করে না।

৩. পিসিওএস জটিলতায় আপেল সিডার ভিনেগার ডোজঃ
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (পিসিওএস) হরমোনজনিত অবস্থা যা অস্বাভাবিক ঋতুস্রাবের সাথে সম্পর্কিত, এবং অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের উচ্চ মাত্রা, ডিম্বাশয়ের সিস্ট এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের সাথে যুক্ত।
তিন মাসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, পিসিওএসে আক্রান্ত মহিলারা রাতের খাওয়ার পরপরই এক টেবিল চামচ (15 মিলি) আপেল সিডার ভিনেগার 100 মিলি বা প্রায় 7 আউনস পানিতে পান করেছেন তারা হরমোনের মাত্রা ঠিক করতে পেরেছিলেন এবং আরও নিয়মিত পিরিয়ড পেয়েছিলেন।
এই ফলাফলগুলি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন হলেও, প্রতিদিন এক টেবিল চামচ (15 মিলি) পিসিওএস লক্ষণগুলির উন্নতির জন্য কার্যকর ডোজ হিসাবে ব্যবহার হয়।
৪. স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আপেল সিডার ভিনেগার দৈনন্দিন ব্যবহারেঃ
আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহণের অন্যান্য জনপ্রিয় কারণগুলির মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করা, ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা।
এই দাবিকে সমর্থন করার জন্য বৈজ্ঞানিক রিসার্চ এখনো পর্যাপ্ত নয়। প্রাণীদের উপরে টিউব-টেস্ট সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয় যে, এই ভিনেগার হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে, ক্যান্সারের সাথে লড়াই করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে, তবে মানুষের মধ্যে কোনও গবেষণা করা হয়নি।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা নিয়মিত ভিনেগার ড্রেসিং সহ সালাদ খান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে এবং পেটের ফ্যাট কম থাকে তবে এটি অন্যান্য কারণগুলি যেমন, সবজি ও সালাদের ফাইবার এর কারণেও হতে পারে।
সুস্বাস্থ্যের জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সর্বোত্তম ডোজ জানতে আরও বেশি মানুষের উপর গবেষণার প্রয়োজন।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এড়াতে আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহনের সেরা যে অভ্যাস করতে হবে
অ্যাপল সিডার ভিনেগার সেবন করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ তবে কিছু লোকের মধ্যে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
যেহেতু আপেল সিডার ভিনেগারের এসিডিক বৈশিষ্ট্যই তার স্বাস্থ্যগত উপকারী দিকগুলো নিশ্চিত করে। এবং এর ইতিবাচক প্রভাবগুলি হ্রাস করতে পারে, এমন কোনও উপাদানের সাথে মিশ্রিত না করে এটি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল নিশ্চিত হবে।

মনে রাখবেন যে ভিনেগারের অম্লতা নিয়মিত ব্যবহারের সাথে দাঁতের এনামেলে-রও ক্ষতি হতে পারে। এটি স্ট্র দিয়ে পান করা উচিত এবং পান করার পর পানি দিয়ে আপনার মুখ কুলকুচি করে ফেললে ক্ষতি কম হবে। আ

আপেল সিডার ভিনেগার পান করে স্বাস্থ্য বেনিফিট পেলেও, বহু বছর ধরে প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে (8 আউন্স বা 237 মিলি) খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে এবং এটি রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের কারন হয়ে দাড়ায় এবং হাড় ক্ষয় করতে পারে।

আপনি যদি আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহনে বমি বমি ভাব, টক ঢেকুর হয় বা অন্য কোন অস্বস্তিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন তবে তৎক্ষনাৎ এটি গ্রহণ বন্ধ করুন এবং আপনার ডায়েটিশিয়ান এর সাথে এই উপসর্গগুলি নিয়ে আলোচনা করুন।

  • লেখক-
    শামীমা অরিন ঐশী, বি.এস.সি.  এম. এস. সি. (খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান), পুষ্টিবিদ, পুষ্টি বার্তা

557 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *