স্বাস্থ্যকর খাবার খান সুস্থ থাকুন

বর্তমানে আমরা সকলেই স্বাস্থ্য সচেতন কিন্ত আমাদের এই স্বাস্থ্য সচেতনতা মিষ্টি এবং তেল কম খাবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আসলেই কি শুধু তেল কমিয়ে আর মিষ্টি খাওয়া ত্যাগ করেই আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হতে পারবেন?? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা।

এমন অনেক খুটিনাটি কিছু বিষয় রয়েছে যা কিনা আপনার স্বাস্থ্যের সুস্থতার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সম্প্রতি অতি বিখ্যাত স্বনামধন্য ১০ জন ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশনিস্টের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ১০ টি নতুন তথ্য জানতে পেরেছি যা নিয়েই আমাদের আজকের নিবেদন।

★ প্রতিদিনের সুস্থতায় সবজি খান বেশি বেশিঃ বিখ্যাত পুষ্টিবিদ Sharon Palmar , Plant Powered Life বইটির লেখক সম্প্রতি তার সাক্ষাতকার এ বলেছেন, প্রতিদিনের খাবার এর প্লেটের প্রায় তিন চতুর্থাংশ খাবার হওয়া উচিত উদ্ভিজ্জ উৎস উদ্ভূত। এ ধরণের খাবার এর মধ্যে রয়েছে বীজ, ডাল,সবজি, ফল, হোল গ্রেইন ফুড যেমন কাউনের চাল, লাল চালের ভাত ইত্যাদি। এ খাবার গুলো যে শুধু আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে তাই নয় বরং পৃথিবীর উদ্ভিজ্জ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

★খাবারের মিলমিশ, রাখবে আপনার স্বাস্থ্য বেশঃ অর্থাৎ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সব ধরণের খাবার যদি আপনি রাখেন তাহলেই আপনার বিপাক ক্রিয়া হবে সাবলীল যা আপনার ক্ষুদা কে সঠিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করবে এবং স্বাস্থ্য কে রাখবে সতেজ। হ্যা ঠিক এমন ই চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন বিখ্যাত স্পোর্টস ডায়েটিশিয়ান এবং ওয়েট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট Sarah Koszyk সম্প্রতি তার এক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছেন, আপনি যদি কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট প্রায় সব ধরণের খাবার মিলিয়ে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা তৈরি করেন তাহলে খাবার খেয়ে আপনি অন্য সময় এর চেয়ে বেশি পরিতৃপ্ত হবেন৷ যেমন আপনি যদি শুধু ফল খান তাহলে যতটা পরিতৃপ্তি পাবেন তার চাইতে ফলের সাথে কিছুটা বাদাম, কিসমিস, টকদই বা পিনাট বাটার মিক্স করে নেন তাহলে তার চাইতে বেশি তৃপ্তি পাবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, Double the pleasure, double the benefit

★স্বাস্থ্যের সুস্থতায় খাদ্য গ্রহণ করুন প্রিয়জনের সাথেঃ The Greek Yogurt Kitchen এর রচয়িতা বিখ্যাত পুষ্টিবিদ Toby Amidor বলেন পারিবারিক খাবার গ্রহণের সময়টা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন স্কুল ও কলেজের বাচ্চারা প্রায় সারাদিন বেশ ধকলের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করে, তাই তাদের জন্য পরিবারের আন্তরিকতা খুব বেশি জরুরি। পরিবারের আন্তরিকতা তৈরির অন্যতম পরিবেশ খাবার টেবিলেই সৃষ্টি হয়৷ আপনি যখন আপনার সন্তান কে নিয়ে সকালে নাশতা করতে বসবেন তখন সে অবশ্যই একটি পুষ্টিকর নাশতা গ্রহণ করে বাইরে যাবে যা তাকে সারাদিনের সব কাজেই উৎসাহ যোগাবে।

★অল্প কিন্ত সঠিক খাবার দিয়ে তৈরী হোক খাদ্যতালিকাঃ বিখ্যাত রন্ধনশিল্পী Clean Eating Cooking School এর প্রতিষ্ঠাতা Michelle Dudash বলেন, আপনার হাতের কাছে যা আছে তা দিয়েই তৈরি করুন আপনার খাদ্যতালিকা। তবে সপ্তাহে আপনার রান্নার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলুন তার পাশাপাশি সেই পরিকল্পনা অনু্যায়ী নিজের বাজার লিস্ট তৈরী করুন এবং অনেক বেশি কিছু না বরং হাতের কাছের পাওয়া সবজি, ফোড়ন, মশলা দিয়েই আপনি তৈরী করতে পারবেন পুষ্টিকর খাদ্য। পুষ্টিকর খাদ্যের জন্য অনেক বেশি আয়োজনের কখনোই দরকার নেই।

★সাপ্তাহিক স্বাস্থ্যকর আহার পরিকল্পনা জরুরিঃ এই বিংশ শতাব্দীর যুগে আমরা সবাই ব্যস্ত। খুব দ্রুত খাবার তৈরী করে নেয়া বা ফ্রোজেন ফুড গুলোই এখন কার পছন্দের তালিকায় সবার আগে অথবা ফাস্ট ফুড কেও সেই তালিকায় রাখতে পারি। কিন্তু পিটসবার্গের Nutrition CheckUp এর মালিক পুষ্টিবিদ Heather Mangieri বলছেন যদি আপনি বেশি ব্যস্ত থাকেন তাহলে সপ্তাহের ছুটির দিন টিতে পুরো সপ্তাহের জন্য খাবার তৈরীর প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন৷ বা আপনার টিফিনে ভাত তরকারির পাশাপাশি যোগ করতে পারেন একটি ফল যা প্রতিদিনের আহার কে করবে অধিক পুষ্টিকর। কম সময়ে তৈরী করা যায় এমন খাবার গুলোর কিছুটা প্রস্তুতি আপনি নিয়ে রাখতে পারেন যেমনঃফল কেটে জিপলক ব্যাগে রাখতে পারেন রাতেই তা পরদিন সকালে সাথে করে নিতে পারেন৷ অনায়াসে সালাদ কেটে রাখতে পারেন রেফ্রিজারেটরে যেটা পরদিন নিতে পারেন টিফিনের সাথে। এভাবেই করে তুলতে পারেন সহজে পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস।


★পুষ্টিকর খাবারের সাথে গড়ে তুলুন সখ্যতাঃ বিখ্যাত Forecast Magazine এর খাদ্য সম্পাদক Robyn Webb বলছেন খাবার এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন৷ যতটুকু পরিমাণ সম্ভব নিজের খাবার নিজে তৈরী করুন।খাবার তৈরীর কৌশল গুলো রপ্ত করুন এবং রান্নাঘর এর সাথে নিজের সম্পর্ক কে দৃঢ় করুন। নিজের খাবার নিজে তৈরী করার মাধ্যমেই অনেক খানি খাবারের পুষ্টিমান উন্নত করা সম্ভব।

★নিজেকে জানুনঃ আহার পরিকল্পনা এবং ক্যালরি ট্র‍্যাকারস খুব ই শিক্ষণীয় কিন্তু খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক এই টুল গুলো থেকেও বেশি জরুরী।হ্যা, সম্প্রতি এমন কথাই বলেছেন – নিজের দৈনন্দিন রুটিন, কাজ এবং বাকি সব কিছুর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার মাধ্যমে খাবার গ্রহণ করুন৷ তবে অবশ্যই ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই যেনো আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করেন তা আপনার নিজের বুঝতে হবে তাহলেই খাবার এর সাথে আপনার স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠবে। খাবার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ‘এটা আমি কেনো খাচ্ছি, এটা খেলে কি সুবিধা’

★যেকোনো এক বেলার খাবার আপনাকে মোটা বা চিকন করে ফেলবে নাঃ University of Arizona এর health and wellness কোচ Christy Wilson তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন আপনার দিনের প্রতিবেলার খাবার আপনাকে সুস্বাস্থ্যের ট্র‍্যাকে নিয়ে আসবে। যেকোনো এক বেলার খাবার কখনোই আপনাকে মোটা বা চিকন হতে সাহায্য করবে না, এবং এটা ভাবাও ভুল যে এক বেলার খাবার বাদ দিলে আপনি তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে পারবেন। আসলে ব্যাপার টা উলটো প্রত্যেক বেলার আহার ই বরং আপনাকে দ্রুত সঠিক স্বাস্থ্যবসস্থায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

★খাদ্য আঁশ কে রাখুন পছন্দের তালিকায়ঃ বিখ্যাত ডায়েট কন্সাল্টেন্সি ফার্ম Skinny Louisiana এর প্রতিষ্ঠাতা Shelly Marie Redmond এর মতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় খাদ্য আঁশ আপনাকে সুস্থ রাখবে। নানান ধরণের আঁশ জাতীয় খাবার প্রতিদিনের তালিকায় অতি অবশ্যই তৃপ্তি এনে দিবে এবং তার পাশাপাশি আপনি পাবেন সঠিক পুষ্টি।

★ পরিমাণ নয় গুণগত মান কে গুরুত্ব দিনঃ CEDRD নামক পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা Majorie Nolan Cohn বলেন প্রতিদিনের খাবারে কত টুকু খাচ্ছেন তার চাইতে বেশি গুরুত্ব দিন আপনি কি ধরণের খাবার খাচ্ছেন। যেমনঃ আপনি অনেক গুলো ভাত খেলে যেই পুষ্টি পাচ্ছেন তার থেকে বেশি আপনি অন্য শাক সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবারে পাচ্ছেন। তাই আহারে পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান রক্ষা করে খাওয়া খুব ই জরুরি।

উপরিউক্ত টিপস গুলো মেনে চলুন। অল্প অল্প কিছু খুটিনাটি মেনে চললেই আমরা খুব সহজেই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারি, তাই নিজের যত্ন নিন আর পুষ্টিবার্তার সাথেই থাকুন।

লেখক-

আয়েশা সিদ্দিকা মারিয়া

খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ।

3,317 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *