সফট ড্রিংক বাদ দিতে কি কি করেছেন?

আজকাল খুব জনপ্রিয় পানীয় সফট ড্রিঙ্ক। বিরিয়ানি, বার্গার, স্যান্ডুইচ, পোলাও-কোরমা যাই হোক না কেন খাবার সাথে সফট ড্রিঙ্ক আমাদের চাই-ই চাই। ইদানীং তরুণেরা শুধুমাত্র তৃষ্ণা মেটাতে পানি না নিয়ে বেছে নিচ্ছে সফট ড্রিঙ্ক।কিন্ত  এই সফট ড্রিঙ্কগুলো আমাদের অজান্তে আমাদের দেহের ক্ষতি করছে নানাভাবে।

১। সফট ড্রিঙ্ক দেহের ওজন বৃদ্ধির হার বাড়ায়। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি। যা দেহে জমা হয়ে দেহে চর্বির পরিমাণ বাড়ায়।

২। সফট ড্রিঙ্ক উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট এট্যাক  এবং  টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩। সফট ড্রিঙ্ক হাড়ে ক্যালসিয়ামের শোষণকে বাঁধা প্রদান করে। ফলে অতিরিক্ত সফট ড্রিঙ্ক পানে বাড়ে হাড় ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি।

৪। এছাড়াও এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।

৫। এমনকি ডায়েট ড্রিঙ্কও হৃদরোগ, ডায়বেটিস, স্থূলতা, ডিমেনশিয়া, স্ট্রোক, যকৃতের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৬। দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন লেপ্টিন। এর কাজ খাদ্যের মাধ্যমে গৃহীত ও খরচকৃত ক্যালোরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। সফট ড্রিঙ্ক এই লেপ্টিনের কাজে বাঁধা দেয়।

তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় আমাদের করণীয় এসব ঝুঁকিপূর্ণ পানীয় পরিহার করা। এখন প্রশ্ন আসে কীভাবে?

আমাদের জীবনযাত্রার সাথে আষ্ঠে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এই সফট ড্রিঙ্ক।যেকোন অনুষ্ঠান, হোক সে বিয়ে, জন্মদিন, গেট-টুগেদার, সফট ড্রিঙ্ক আমাদের জন্য অপরিহার্য। এখন রাস্তাঘাটে তৃষ্ণা মেটাতেও আমরা হাত বাড়াই সফট ড্রিঙ্কের দিকে।

তবে খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললে কাটানো যায় সফট ড্রিঙ্কের প্রতি এই আসক্তি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক নিয়মগুলো-

১। দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে হবে- কোন অভ্যাস দূর করার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হল মনের জোর এবং ওই অভ্যাস দূর করার সদিচ্ছা।২। ধৈর্যের সাথে কমাতে হবে পরিমাণ- ধীরে ধীরে কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে সফট ড্রিঙ্কের পরিমাণ। আপনি যদি প্রতিদিন এটি পান করে অভ্যস্ত থাকেন তবে, প্রথমে চারদিনে একবার, তারপর প্রতি সপ্তাহে একবার, প্রতি ১৫ দিনে একবার, প্রতি মাসে একবার, প্রতি ৬ মাসে একবার। এভাবে কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে পরিমাণ।

২। বেছে নিন পানি- তৃষ্ণা মেটাতে পানি পান করার অভ্যাস করে তুলুন। অনেক সময়ই তৃষ্ণা মেটাতে সফট ড্রিঙ্ক পান করা হয়ে থাকে, যেটা করা একদমই উচিত নয়।

৩। সফট ড্রিঙ্কের বিকল্প বেছে নিন- ডাবের পানি, ফলের রস, লেবুর শরবত, চা এগুলো হতে পারে সফট ড্রিঙ্কের স্বাস্থ্যকর বিকল্প। সফট ড্রিঙ্কের ঝাঁঝালো ফ্লেভারের জন্য শরবতে ব্যবহার করতে পারেন পুদিনা পাতা।

৪। ভারী খাবারের পরও সফট ড্রিঙ্ক না- অনেকে ভারী খাবারের পর সফট ড্রিঙ্ক খেতে পছন্দ করে। অনেকে মনে করেন এটি হজমে সহায়ক। আসলে তেমন কিছুই না। এটি পান করার সাথে সাথে এতে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস আকারে বের হয়ে আসে।

হজমের সহায়তার জন্য খেতে পারেন জিরা পানি, বোরহানি, লাবান।

৫। ব্যবহার করুন বিকল্প রিফ্রেশার- অনেকে প্রচুর তেলযুক্ত খাবার খেয়ে মুখ রিফ্রেশ করতে সফট ড্রিঙ্ক পান করে থাকেন। তাদের জন্য রইল ছোট্ট একটি টিপস- খাওয়া শেষ করে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মেজে ফেলুন। এবং তারপরেই পান করুন পুদিনা পাতা দেওয়া এক গ্লাস পানি।

বর্তমানে আমাদের মধ্যে বেড়ে যাচ্ছে লাইফস্টাইল ডিজিজের হার। লাইফস্টাইল ডিজিজ বলতে বোঝায় সেই সব রোগ যা আমাদের জীবনযাপনের ধরনের জন্য আমাদের হয়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছোট খাটো পরিবর্তন এনে আমরা সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি এসব রোগবালাই।

তাই দেরী না করে আজ থেকেই সচেতন হোন। শুরু করুন পরিবর্তন।

লেখক-
সৃজনী মণ্ডল
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

1,920 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *