পছন্দের সবজিটি আপনার আর্থ্রাইটিস এ ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে নাতো!

হক সাহেব ২-৩ বছর ধরে বাত রোগে ভুগছেন। শীতকাল আসলেই তার ফুলকপি খেতে ইচ্ছা করে। ফুলকপি তাঁর প্রিয় সবজি। কিন্তু তিনি খেয়াল করেন যতবারই ফুলকপি খান ততবারই তাঁর হাঁটু ব্যাথাটা বেড়ে যায়।তিনি যদি জানতেন তাঁর হাটু ব্যাথার জন্য কোন খাবারগুলো দায়ী তাহলে তাঁর জন্য বেশ সুবিধা হতো। হক সাহেবের মতো অনেক রোগীই জানেন না তাঁদের কোন খাবার খাওয়া উচিত, কোনটা উচিত নয়। আজকের লেখাটা এমন বাত রোগীদের জন্য।

আর্থ্রাইটিস হল গিরার প্রদাহ। কিন্তু আসলে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসে এই প্রদাহ থাকে না। যদিও অনেকেই গিরার যেকোনো ব্যাথাকে বাতের ব্যাথা বলে থাকেন।আর্থ্রাইটিস দুই ধরনের – প্রদাহজনিত এবং প্রদাহবিহীন। গেঁটে বাত হলো আর্থ্রাইটিসের এক ধরনের যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা যা রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার জন্য ঘটে থাকে।পিউরিন হলো নাইট্রোজেনজাত যৌগ যা কোষে তৈরি হতে পারে অথবা পিউরিনজাতীয় খাবার গ্রহনের মাধ্যমেও শরীরে আসতে পারে। যখন পিউরিন নামক রাসায়নিক যৌগ ভেঙে যায় তখন বর্জ্য পদার্থরূপে ইউরিক এসিড তৈরি হয়। এই ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে রক্তের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় শরীর থেকে বের না হয়ে জমতে শুরু করে। সাধারনত কনুই,হাটু, গোড়ালি ইত্যাদি জয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড ক্রিস্টালরূপে জমা হয়।

শরীরের বেশিরভাগ ইউরিক এসিড মূত্রের সাথে বের হয়ে যায়। কিন্তু গেঁটে বাতের রোগীরা যদি পিউরিনজাতীয় খাবার গ্রহন করেন তাহলে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর হতে বের হতে পারে না। তখন সেটি বিভিন্ন হাড়ের জয়েন্টে জমা হয়ে ক্রিস্টালের আকার ধারন করে এবং ব্যাথা করে। কিছু খাবার আছে যেগুলো গ্রহন করলে শরীরে সরাসরি পিউরিন প্রবেশ করে। একারনে বাতে ব্যাথার রোগীদের উচ্চ পিউরিন খাবার গ্রহন বর্জন করতে হবে। সাথে এটাও জানতে হবে কোন খাবারগুলো গ্রহন করলে বাতের ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

Fingers of patients with gout.

  1. উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার (প্রতি ১০০গ্রাম খাবারে ১০০-১০০০মিলিগ্রাম পিউরিন পাওয়া যায়) যেগুলো বর্জন করতে হবে সেগুলো হল-
  • অর্গান মিট গুলো যেমন -কলিজা,কিডনি,ফুসফুস, মগজ, হৃৎপিণ্ড
  • হাঁসের মাংস , হাঁসের ডিম, চামড়াসহ পাখি বা মুরগী, হাঁসের মাংস।
  • মাশরুম, বাধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, পালংশাক,বেগুন, শুকনো মটরশুটি, ছোলা, মসুরের ডাল
  • মিষ্টি পাউরুটি, চা, কফি, চকলেট, বাদাম, ইস্ট
  • সামুদ্রিক খাবার যেমন – সামুদ্রিক মাছ,শামুক, ঝিনুক,চিংড়ি,কাঁকড়া।
  1. মধ্যম পিউরিনযুক্ত খাবার (প্রতি ১০০গ্রাম খাবারে ৯-১০০মিলিগ্রাম পিউরিন পাওয়া যায়) যেগুলো মধ্যম ভাবে গ্রহণ করতে হবে সেগুলো হল-
  • মাছ, দেশী মুরগী।
  • চামড়া ছাড়া পাখির মাংস/মুরগী/ হাঁসের মাংস
  • সবজি (বীজ, খোসা ছাড়া)
  1. স্বল্প/নিম্ন পিউরিনযুক্ত খাবার (প্রতি ১০০গ্রাম খাবারে অল্প পরিমাণ পিউরিন পাওয়া যায়) যেগুলো নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা যায় সেগুলো হল-
  • শষ্যঃ রুটি, যব , ভূষি সমৃদ্ধ আটা, জেলাটিন, ম্যাকরনী, ভূট্টার খৈ বা পপকর্ণ, নুডুলস, ওটস, সেমাই, সুজি।
  • সবজিঃ গাজর, শশা, লেটুস, মিষ্টি আলু, কুমড়া, টমেটো, পেয়াজ, মূলা, বিট।
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ মাখন বা মার্জারিন(মাঝারী অনুপাতে), চর্বি (মধ্যম), ক্রিম (মধ্যম), পনির, আইসক্রিম, কাস্ট্যার্ড, পুডিং।
  • মাংসঃ চামড়া ছাড়া মুরগী, যেকোন পাখির মাংস (চামড়া ছাড়া), ডিম, মাছ (অধিক চর্বি ছাড়া, পাঙ্গাস ছাড়া)।
  • ফলঃ আপেল, চেরী, নাসপাতি, আনারস, বরই, কম্লা, পিচ, স্ট্রবেরী, আমলকী, আঙ্গুর, জাম্বুরা, আওমড়া, লেবু, জলপাই।
  • অন্যান্যঃ কম ক্যাফেইনযুক্ত চকলেট, কফি, চা, মসলা, আচার, লবণ, চিনি, মিষ্টি, সাদা ভিনেগার, সাদা সস।
    এর পাশাপাশি খাবার গ্রহনের সাথে সাথে প্রতিদিন ৭-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর বের হয়ে যেতে পারে। যে কোন রোগে কোন খাবারগুলো গ্রহন করা যাবে না আর কোন খাবারগুলো গ্রহন করলে ঐ বিশেষ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে এগুলো জানা থাকলে রোগ মোকাবেলা করা সহজ হয়।খাবারে যেন নিয়মিত ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম থাকতে হবে, ভিটামিন বি গ্রুপ সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে এতে toxin উৎপাদন কম হয়।
    বাতরোগের নানা ধরনের আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে কিন্তু মনে রাখবেন, এই রোগ সম্পূর্ন ভালো হয়ে যাবে না। রোগ নিয়ন্ত্রক ওষুধ খেয়ে রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং বিকলাঙ্গতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
    লেখাঃ জান্নাতুল তাবাসসুম
    খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ
    সম্পাদনাঃ পুষ্টিবিদ শাহ্রুখ নাজ রহমান
    খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগ

2,513 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *