ড্রাগন ফলের নানা গুণ

প্রাচীন রূপকথা জুড়ে  আছে ড্রাগন নামক ভয়ংকর শক্তিশালী  এক প্রাণীর গল্প। রুপকথার বা কোনো কল্পকাহিনির   ড্রাগন  নয়, একটা জলজ্যান্ত ফল।হ্যাঁ এখানে বলা হচ্ছে ড্রাগন ফলের কথা।এটি এক ধরনের ক্যাকটাস প্রজাতির ফল। ড্রাগন ফল Hylocereus গণের অন্তর্ভুক্ত। এই ফল মুলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল। বতর্মানে এই ফলটি দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিনচীন,মেক্সিকো, ইসরাইল,থাইল্যান্ড,মালেশিয়াসহ বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। গণচীনের লোকেরা এটিকে ফায়ার ড্রাগন ফ্রুট, থাইল্যান্ডে ড্রাগন ক্রিস্টাল, ভিয়েতনামে সুইট ড্রাগন, মালয়েশিয়াতে ড্রাগন ফ্রুট নামে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে এই ফল অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে ড্রাগন ফল গ্রীষ্মকালে উৎপাদিত হয়ে থাকে। জুন মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। ফুল আসার পনেরো দিন পর ফল আসে। জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস ফলন পাওয়া যায়।

  • ড্রাগন ফল অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। এই ফলটি দেখতে ডিম্বাকার ও লাল রঙের । এর  ফুল দেখতে অনেকটা সাদা নাইট কুইন ফুলের মতো।ড্রাগন টক ও মিষ্টি দুই স্বাদেরই পাওয় যায়। বিদেশি ফল হলেও ড্রাগন ফলের সতেজ করা স্বাদ ও পুষ্টিগুনের জন্য বাংলাদেশে এই ফল চাষ করা হচ্ছে।

   আসুন জেনে নেই এর  পুষ্টিগুন সম্পর্কে,

পানি-৮৭গ্রাম

 প্রোটিন- ১.১গ্রাম

 ফ্যাট-০.৪গ্রাম  

ফাইবার-৩গ্রাম  

কার্বোহাইড্রেট-১১গ্রাম

               থায়ামিন -০.০৪মি.গ্রা.

               নায়াসিন-০.১৬মি.গ্রা.     

                রিবোফ্লাবিন০.০৫মি.গ্রা.

                ভিটামিন সি-২০.৫মি.গ্রা.

                ক্যালসিয়াম -৮.৫মি.গ্রা.  

                আয়রন-১.৯মি.গ্রা.

                ফসফরাস-২২.৫মি.গ্রা.

ড্রাগন ফলের উপকারিতা :   

১/ড্রাগন ফলে ফ্ল্যাভনয়েড, ফেনোলিক এসিড এবং বেটাসায়ানিন নামক  অ্যানটিঅক্সিডেনট আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২/এটা প্রাকৃতিকভাবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট-ফ্রি এবং ফাইবার সম্পন্ন।তাই  ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য  ড্রাগন ফল খুব উপকারি।

৩/ ড্রাগন ফল অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষ তৈরীতে সাহায্য করে। প্রি-ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে এটি ডায়বেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

৪/অনেক ফলের তুলনায় এতে অনেক বেশি ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। আমাদের শরীরের কোষগুলোতে ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা শরীরের মধ্যে অন্তত ৬০০ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।এটি খাবার ভেঙে শক্তি উৎপাদন, পেশি সংকোচন ও হাড়ের গঠনে ভুমিকা রাখে।

৫/এর বীজে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি এসিড যা হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে। ২০১০ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে ড্রাগন খেলে উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

 ৬/বেশি পরিমাণে আশঁ থাকায় ড্রাগন খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে। 

৭/খাদ্যে আঁশের পরিমাণ ঠিক থাকলে পরিপাক ক্রিয়া ঠিক ভাবে কাজ করে। উচ্চ আঁশের ড্রাগন ফল তাই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বদহজম প্রতিরোধেও কার্যকর।

৮/ড্রাগন ফলে থাকা প্রিবায়োটিক আমাদের অন্ত্রে উপকারি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে।

 

লেখক   

ফারিয়া মুনতাহা মাহি  

সম্পাদক 

সৃজনী মণ্ডল   

784 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *