থ্যালাসেমিক হলে কেমন হওয়া উচিত আপনার খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপন?

আপনি জানেন কি থ্যালাসেমিয়া একটি মারাত্মক জিনঘটিত বংশগত রোগ হওয়া সত্ত্বেও আপনি
স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারবেন? তাই কোনো ভ্রান্ত ধারণা
পোষণ না করে আজই জেনে নিন কিভাবে থ্যালাসেমিয়া থেকে আপনি আরোগ্য লাভ করার পূর্বেই
সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

Beta thalassemia: MedlinePlus Genetics
জেনে রাখা ভালো-
থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুই ধরনের- আলফা এবং বিটা গ্লোবিন থ্যালাসেমিয়া। দুটি ধরনের মধ্যে মূল
পার্থক্য হলো আলফা থ্যালাসেমিয়ায় রক্তের হিমোগ্লোবিনের আলফা গ্লোবিন চেইন স্বল্প কিংবা
অনুপস্থিত থাকে। অপরপক্ষে, বিটা থ্যালাসেমিয়ায় হিমোগ্লোবিনের বিটা গ্লোবিন চেইন বেশিরভাগ
উৎপাদন না হওয়ায় অনুপস্থিত থাকে।
বিশ্বে আলফা থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যাই অধিক, তবে ধরন যেমনই হোক না কেন, তা রক্ত
পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব। দেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, হাড়ের অস্বাভাবিক গঠন,
শ্বাসকষ্ট, রক্তশূন্যতাসহ কিছু রোগ লক্ষণ আলফা ও বিটা দুই ধরনের থ্যালাসেমিয়াতেই দেখা যায়।
তবে বিটা থ্যালাসেমিয়ায় লক্ষণগুলো অধিক প্রকট।
আলফা থ্যালাসেমিয়া কিংবা থ্যালাসেমিয়া মাইনর তেমন গুরুতর নয় এবং রক্ত নেয়ার প্রয়োজন
পড়েনা। তাই মাইনর থ্যালাসেমিক ব্যক্তিগণ সকল সাধারণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। তবে আপনি
যদি বিটা থ্যালাসেমিক হয়ে থাকেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে অধিক সচেতন
হওয়া প্রয়োজন, যেমন-

১. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করলে থ্যালাসেমিয়া রোগী বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন,
তবে অবশ্যই শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে ভারী ব্যায়াম করা উচিৎ নয়।
২. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শক্তি প্রদানকারী খাদ্য (চাল, গম হতে তৈরি কিছু খাবার এবং
উদ্ভিজ্জ স্নেহ) থাকা প্রয়োজন যেন দূর্বলতা দেখা না দেয়।
৩. ক্যালসিয়াম জাতীয় খাদ্য থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ প্রশমনে বেশ কার্যকরী। অতঃপর
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, দুধ, এবং মাছ রাখলে ভালো হয়। তাছাড়া, এই খাদ্যে আয়রনের
পরিমাণ কম এবং শরীরে দ্রুত শোষিত হয়না বিধায় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পক্ষে নিরাপদ।

যেসব শাকসবজি ও ফলে আয়রনের পরিমাণ কম কিংবা আয়রন শোষণ বাধাগ্রস্ত করে এমন
উপাদান যেমন- পলিফেনল জাতীয় রাসায়নিক উপাদান রয়েছে তাও থ্যালাসেমিয়ার জন্য
স্বাস্থ্যকর।

Why You Should Eat Polyphenol-Rich Foods | Civilized Life
৪. যেসকল খাবারে প্রচুর পরিমানে আয়রন রয়েছে তা বিটা থ্যালাসেমিক ব্যক্তিরা অবশ্যই এড়িয়ে
চলবেন, কেননা ঘনঘন রক্ত গ্রহণের ফলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে আয়রন জমতে
থাকে যে কারণে সীমিত পরিমানে আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা
যেমন বৃক্কের রোগ, হৃদরোগ, শরীরে বিষক্রিয়া সহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।
বিভিন্ন আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্যসমূহ হল-
 কলিজা
 সামুদ্রিক প্রাণী
 গাঢ় সবুজ শাকসবজি
 শুষ্ক ফল
 বিভিন্ন বিচিজাতীয় খাদ্য
 আয়রনযুক্ত খাদ্যশস্য এবং তা থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার যেমন- পাউরুটি, পাস্তা ইত্যাদি।
৫. চলুন দেখে নেই থ্যালাসেমিয়ায় নিষিদ্ধ কয়েকটি খাবার-
 তরমুজসহ ভিটামিন-সি জাতীয় কিছু ফল যেমন- কমলা, লেবু
 গাঢ় সবুজ সবজি
 কিসমিস, আলুবোখারা
 বাদাম ও বিচিজাতীয় খাবার
 গরু, ভেড়া, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর মাংস, তবে মুরগির মাংস এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৬.

একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে
চলবেন কেননা যেকোনো খাদ্যবাহিত রোগ এবং ইনফেকশন ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার
অবনতি ঘটাবে।
সুতরাং, থ্যালাসেমিক হওয়ার পরও চিকিৎসা চলাকালীন সুস্থতা বজায় রাখা কোনো কঠিন কাজ
নয়। তবে মনে রাখবেন, উপরোক্ত সকল তথ্য থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

লেখাঃ মাইশা মেহ্জাবিন
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

সম্পাদনাঃ জান্নাতুল তাবাসসুম
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

486 total views, 4 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *