জাম , ষোলো আনা পুষ্টিগুণ

জ্যৈষ্ঠ মাস বা মধু মাসের ফল জাম । টক-মিষ্টি কালো রঙের ফলটি ছোট হলেও পুষ্টিগুণ এ অন্যতম।  অন্যান্য সব মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীত্ব অনেক কম।  সর্ব প্রথম ভারতবর্ষে জাম চাষ শুরু হয়। জাম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত । যেমন -যেমন- জাম্বুল, জাম্ভুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম । ফিলিপাইনে একে ডুহাট বলা হয় ।

জাম দুই প্রকারের হয় । যথাঃ ( ১) ক্ষুদি বা ছোট জাম ও (২) বড় জাম বা কালো জাম ।
প্রতি ১০০ গ্রাম জামে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানঃ
শক্তিঃ ৩৯ কিলোক্যালরী
শর্করাঃ ৬.১ গ্রাম,
স্নেহ পদার্থঃ ০.৫ গ্রাম,
প্রোটিনঃ ০.৯ গ্রাম
ভিটামিন সিঃ ৭৪.১ মিলিগ্রাম,
ক্যালসিয়ামঃ ২৩ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়ামঃ ৩৭ মিলিগ্রাম,
ফসফরাসঃ ১৬ মিলিগ্রাম,
পটাশিয়ামঃ ১৭২ মিলিগ্রাম,
সোডিয়ামঃ ২৮ মিলিগ্রাম,
পানিঃ ৮৮.২ গ্রাম
খাদ্য আঁশ ৩.৫ গ্রাম

জামের উপকারীতাঃ
বিভিন্ন প্রকার রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীনে জামের
ব্যবহার হয়ে থাকে । আয়ুর্বেদী এবং ইউনানী চিকিৎসাতেও বহু শতাব্দী ধরে জাম ব্যবহৃত হয়ে
আসছে ।
১) জামে এন্থোসায়ানিন নামক ফ্ল্যাভোনয়েড বিদ্যমান, যা যকৃত ও বৃক্কে ইনসুলিনেজ হরমেনের
কাজ কে বাধা দিয়ে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । জামের গ্লাইসেমিক
ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী ।
২) জামে বিদ্যমান ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
করে ।
৩) জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষের কর্ম শক্তি জোগায় ।
৪) জামে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’। যা প্রাকৃতিক ভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ন্ত্রনে
কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ।
৫) জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে । নিয়মত জাম খেলে উচ্চ
রক্তচাপ ৩৪.৬% পর্যন্ত নিয়ন্ত্রনে থাকে ।

Jamun (Java Plum) Ice cream – SoulifyFoods

৬) জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে,  যা ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে ।
৭) বিভিন্ন গবেষনায় প্রমানিত হয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধে জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮) জামে রয়েছে পানি , লবন ও পটাসিয়াম যা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে ।
৯) জাম আঁশ সম্বৃদ্ধ তাই কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে ।
১০) জাম মুখের রুচি বৃদ্ধি করে । ভ্রমন জনিত বমি এড়াতে জাম খেতে পারেন ।
১১) জামে বিদ্যমান আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে ।
১২) জামে থাকা উপাদান স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে ।
১৩) রাতকানা রোগী ও যাদের চোখের ছানি অপারেশন হয়েছে তাদের জন্য জাম অনেক উপকারী ।
১৪) ক্ষত বা ঘা এর উপর জাম ছালের মিহি গুঁড়া ছড়িয়ে দিলে ঘা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে ।
১৫) জামের নির্যাসে রেডিওপ্রোটেক্টিভ উপাদান রয়েছে যা ফ্রি রেডিক্যালের বিকিরণে বাঁধা দেয় ।
১৬) জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার যা হাইড্রেটেড থাকতে ও ত্বককে লাবণ্যময়
রাখতে সাহায্য করে ।
লক্ষনীয়ঃ
 আধাপাকা জাম খাওয়া উচিৎ নয় ।
 খালি পেটে বা একদম ভরপেটে জাম খাবেন না । খেলে এসিডিটি বা পেট ব্যাথা হতে পারে ।
 জাম খাওয়ার আগে কিছুটা সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে জাম থেকে অনেকাংশে ফরমালিন
দূরীভূত হবে ।

লেখকঃ সাদিয়া ইসলাম কাঞ্চি
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ
সম্পাদকঃ হুমায়ারা নাজনীন তামান্না
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ

260 total views, 2 views today

Any opinion ..?

Posted by pushtibarta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *